odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 13th October 2026, ১৩th October ২০২৬
সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আঘাতের অভিযোগ; ঘটনার দায় নির্ধারণ করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান।

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি, প্রতিবাদ ঢাবির ৬৩ শিক্ষকের

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৩ October ২০২৬ ১৬:৫৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৩ October ২০২৬ ১৬:৫৭

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ, উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৬৩ শিক্ষক। তাঁদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু একজন কালজয়ী কবি ও বিশ্বমানবতাবাদী মনীষীর প্রতি অবমাননা নয়, বরং বাঙালির সাহিত্য-সংস্কৃতি, মুক্তবুদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপরও আঘাত।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শিক্ষকরা এ প্রতিক্রিয়া জানান। একই সঙ্গে তাঁরা ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

### ‘মতভিন্নতা মানেই অবমাননা নয়’

বিবৃতিতে শিক্ষকরা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মহীরুহ। বাঙালির আত্মপরিচয় নির্মাণ, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং বিশ্বমানবতার বাণী প্রচারে তাঁর সৃষ্টিকর্ম অসামান্য ভূমিকা রেখেছে। তিনি শুধু বাঙালির নন, বিশ্বসাহিত্য ও মননজগতেরও অমূল্য সম্পদ।

তাঁদের মতে, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন ও মানবতাবাদী চিন্তা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুক্তচিন্তা, সৌন্দর্যবোধ, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মর্যাদার শিক্ষা দিয়ে আসছে।

শিক্ষকরা বলেন, কোনো ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, দর্শন কিংবা চিন্তাধারার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। তবে মতভিন্নতা প্রকাশের নামে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি অবমাননা, বিদ্বেষমূলক আচরণ কিংবা মনীষীদের প্রতিকৃতি বিকৃত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

তাঁদের মতে, সৃষ্টিশীল চর্চা, বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা এবং অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রসারের মধ্য দিয়েই এ ধরনের সংকীর্ণতার যথাযথ জবাব দেওয়া সম্ভব।

### সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধের আহ্বান

বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তচিন্তা, মানবিকতা ও সাংস্কৃতিক সহিষ্ণুতার চর্চা জোরদার করতে হবে।

তাঁরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও দায়দায়িত্ব দ্রুত নিরূপণ করে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।

একই সঙ্গে দেশের প্রগতিশীল, সংস্কৃতিমনা ও মুক্তবুদ্ধির মানুষকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, মননশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

### বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকেরা

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ, অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার, অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান, অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ, অধ্যাপক ড. মো. আফজাল হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান, অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ হুমায়ুন কবির, অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার), অধ্যাপক ড. তৌহিদা রশীদ, অধ্যাপক ড. জামিলা এ চৌধুরী, অধ্যাপক আবু হোসেন মুহাম্মদ আহসান, অধ্যাপক ড. সমীর কুমার শীল, অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ, অধ্যাপক ড. মাসুদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিত, অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন, অধ্যাপক রবিউল ইসলামসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদেরা।

বিবৃতিতে মোট ৬৩ জন শিক্ষক স্বাক্ষর করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের এই প্রতিবাদ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে।

:

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি লেপন! ক্ষুব্ধ ঢাবির ৬৩ শিক্ষক, জানালেন কঠোর প্রতিবাদ

: #রবীন্দ্রনাথঠাকুর #ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় #ঢাবি #শিক্ষকবিবৃতি #বাংলাসংস্কৃতি #অসাম্প্রদায়িকতা #মুক্তচিন্তা #অধিকারপত্র