odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 12th October 2026, ১২th October ২০২৬
নিকাব পরা ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ; শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মধ্যে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব।

তাসনিম সিরাজের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড প্রদর্শন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১২ October ২০২৬ ২১:৫২

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১২ October ২০২৬ ২১:৫২

অধিকারপত্র ডটকম | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক ও অপমানজনক আচরণের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে শ্রেণিকক্ষে মুখে কালো কাপড় বেঁধে তাঁরা লাল কার্ড প্রদর্শন করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে কটাক্ষ করেছেন ওই শিক্ষক। একই বেঞ্চে বসা ছয় শিক্ষার্থীকে নিয়েও তিনি কটূক্তি করেছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বক্তব্যও সামনে এসেছে।

 শ্রেণিকক্ষে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ

শিক্ষার্থীরা জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের কথিত আচরণের প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি এ ঘটনায় শিক্ষককে সমর্থনকারীদের ভূমিকা নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন।

শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নাঈম এ প্রসঙ্গে শিক্ষক সামিনা লুৎফা ও শিক্ষক নেটওয়ার্কের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং প্রতিবাদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চূড়ান্ত অবস্থান কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

 লিখিত অভিযোগ পর্যালোচনা ছাড়া মন্তব্য নয়

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, লিখিত অভিযোগ পর্যালোচনা না করে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না।

এর আগে শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর গত ৮ অক্টোবর তাসনিম সিরাজ মাহবুবকে বিভাগের শ্রেণিকক্ষের কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়। তাঁর কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে যা বলেছেন তাসনিম সিরাজ

গত ১০ অক্টোবর নিজের ফেসবুক ভিডিওতে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুব।

তিনি বলেন, নিকাব পরা ওই ছাত্রীকে পোশাক পরিবর্তন করতে, নিকাব খুলতে কিংবা শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে যেতে বলেননি তিনি। তবে ছাত্রীর চোখ দেখতে না পাওয়ায় তাঁকে শনাক্ত করা এবং কার্যকরভাবে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে অসুবিধা হচ্ছিল বলে জানান তিনি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং শিক্ষকের বক্তব্যের মধ্যে ভিন্নতা থাকায় ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষকদের একাডেমিক স্বাধীনতা নিয়েও প্রতিবাদ

এদিকে, শিক্ষকদের একাডেমিক স্বাধীনতা খর্বের প্রতিবাদে গত ১১ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সামিনা লুৎফা শ্রেণিকক্ষে মুখে কালো কাপড় বেঁধে পাঁচ মিনিট নীরব অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

একই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ এবং শিক্ষকের একাডেমিক স্বাধীনতার প্রশ্নে পৃথক অবস্থান সামনে আসায় বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় পোশাকের প্রতি সম্মান, শ্রেণিকক্ষে পারস্পরিক মর্যাদা এবং শিক্ষকদের একাডেমিক স্বাধীনতা—এসব প্রশ্নের সুষ্ঠু সমাধানে নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও প্রমাণ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।