odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 23rd October 2026, ২৩rd October ২০২৬
বাসা থেকে উদ্ধার ৫২ বছর বয়সী নাজিয়া আহমেদের মরদেহ; আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার ৩, চিরকুটের সত্যতা নিয়েও তদন্ত

নাখালপাড়ায় নাজিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু, চিরকুটের সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২২ October ২০২৬ ২০:৫৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২২ October ২০২৬ ২০:৫৩

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম

রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ায় নিজ বাসা থেকে নাজিয়া আহমেদ (৫২) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে পুলিশ। ঘটনাটি আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ৭ অক্টোবর নাখালপাড়ার বাসা থেকে নাজিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর আত্মীয় ইনাম আল সাদেক আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—দুই বোন শামীম আরা সুলতানা মিঠু ও ফাতেমা সুলতানা ঝুমকি এবং তাঁদের ভাগনে মো. ফয়সাল রেজা। মামলার চার নম্বর আসামি ঝুমকির সাবেক স্বামী মো. অটলকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে সমকাল-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

উদ্ধার চিরকুট ঘিরে রহস্য

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান সমকালকে জানান, নাজিয়ার বাসা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে আত্মহত্যার কারণ হিসেবে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, যে বাড়িতে নাজিয়া বসবাস করতেন, সেটির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে আত্মীয়দের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ছিল। তবে এই বিরোধের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয়।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে সমকাল জানিয়েছে, উদ্ধার করা চিরকুটটি নাজিয়া নিজে লিখেছেন, নাকি অন্য কেউ ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করেছেন, তা পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর স্পষ্ট হতে পারে।

 বাসা থেকে উদ্ধার ঘুমের ওষুধ

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান জানান, মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নাজিয়ার বাসা থেকে বেশ কিছু ঘুমের ওষুধও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত, ভিসেরা ও চিরকুট পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তথ্য

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাজিয়ার সঙ্গে তাঁর স্বামীর বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। তাঁর একমাত্র মেয়ে দেশের বাইরে থাকেন।

নাজিয়ার মৃত্যুর পেছনে কী কারণ ছিল, উদ্ধার করা চিরকুটের বক্তব্য কতটা নির্ভরযোগ্য এবং এ ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।