odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 2nd January 2026, ২nd January ২০২৬
সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রণীত নতুন গাইডলাইন, কঠোর শাস্তিমূলক বিধানসহ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের পরিকল্পনা

শিক্ষাঙ্গনে যৌন হয়রানি নির্মূলে সরকার কড়া ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করছে

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২ January ২০২৬ ০০:১৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২ January ২০২৬ ০০:১৯

বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম সংবাদ প্রতিবেদন

ঢাকা : দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি নির্মূলে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। উচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক আদেশের আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন প্রণয়ন করেছে, যা বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রস্তাবিত গাইডলাইনটি শারীরিক স্পর্শের বাইরে ইমেল, এসএমএস, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করা, ব্ল্যাকমেইল এবং প্রত্যাখ্যাত প্রেমে হুমকি দেওয়াকেও যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য করবে।

মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান জানান, “এই গাইডলাইন অনুমোদিত হলে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর কর্তৃপক্ষকে **নারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাধ্য করা হবে। এটি শুধু কর্মক্ষেত্র নয়, শিক্ষার্থী ও নারী শিক্ষকদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করবে।”

গাইডলাইনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে নারী প্রধান পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন, ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বিচারের সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা, এবং অপরাধীকে সাময়িক বরখাস্ত করার মতো কঠোর প্রশাসনিক বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখা, এবং উচ্চ পর্যায়ে আপিল করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত নির্দেশিকায় যৌন হয়রানিকে বিস্তৃতভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে—

  • ফোন, ইমেইল, এসএমএস বা সামাজিক মাধ্যমে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা পাঠানো।
  • চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে ভিডিও বা ছবি ধারণ ও সংরক্ষণ।
  • প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা ব্যবহার করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা বা প্রেম প্রত্যাখ্যাত হলে হুমকি।
  • পরীক্ষায় নম্বর কমানো বা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা।

ভুক্তভোগী নিজে বা আইনজীবীর মাধ্যমে ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে পারবেন। তদন্তে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হবে এবং কমিটির ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত সময় বাড়ানো যাবে।

গাইডলাইন অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক কমিটিতে বিচার না পেলে ভুক্তভোগীর জন্য উচ্চতর পর্যায়ে আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষেধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে শিক্ষার্থীদের আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ, সচেতনতা সভা এবং আইন সম্পর্কিত পরামর্শ প্রদান বাধ্যতামূলক।

জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ (নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ), ৯৯৯ (পুলিশি সহায়তা) এবং ১৬৪৩০ (আইনি সহায়তা) দ্রুত সহায়তার জন্য ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এভাবে গাইডলাইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘদিনের ভয়ের সংস্কৃতি দূর হয়ে নারীবান্ধব শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

✍️ রিপোর্টার

নাজিউর রহমান সোহেল, 


 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: