odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 18th September 2026, ১৮th September ২০২৬
ঢাবির পরীক্ষায় এআই ব্যবহার করে অসদুপায়ের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা ফাতহুন কারিব ও হল সংসদ সদস্য মো. ফেরদাউসকে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাবির পরীক্ষায় এআই ব্যবহারের অভিযোগে ছাত্রদল ও হল সংসদ নেতার শাস্তি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৮ September ২০২৬ ২০:৪৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৮ September ২০২৬ ২০:৪৯

অধিকার পত্র ডটকম / ঢাবি প্রতিনিধি :

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই শিক্ষার্থীকে শাস্তি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শাস্তিপ্রাপ্তদের একজন মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সদস্য ফাতহুন কারিব চৌধুরী এবং অপরজন হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য মো. ফেরদাউস।

দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ১১ জুন বিভাগের একটি পরীক্ষা চলাকালে ফাতহুন কারিব চৌধুরী মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। তার কাছে থাকা ফোন পরীক্ষা করে গুগলের এআই সেবা জেমিনিতে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার তথ্য পাওয়া যায়। এতে ওই পরীক্ষার প্রথম প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করা হয়েছিল বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ফেরদাউসের বিরুদ্ধে বিভাগের ১০৭ নম্বর কোর্সের রিটেক পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে পরীক্ষার হল থেকে বের হয়ে বিভাগের করিডরে যান এবং এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর কাছ থেকে স্মার্টফোন নিয়ে চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেন। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাকে আটক করেন।

জব্দ করা ফোনের সার্চ হিস্ট্রি পর্যালোচনায় পরীক্ষায় আসা প্রশ্নগুলো অনুসন্ধান করা হয়েছিল বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষক তার খাতা রিপোর্ট করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে পাঠান।

সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে শাস্তি

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফাতহুন কারিব চৌধুরীকে ‘পরীক্ষা +২’ এবং মো. ফেরদাউসকে ‘পরীক্ষা +১’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

‘পরীক্ষা +২’ শাস্তির অর্থ হলো, যে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে সেটি বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী দুটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া যাবে না। ফলে কারিব চৌধুরীর সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিল এবং পরবর্তী দুটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ‘পরীক্ষা +১’-এর আওতায় ফেরদাউসের সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা বাতিলের পাশাপাশি পরবর্তী একটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশের পর ৩১ আগস্ট উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত আদেশে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

একই সিন্ডিকেট সভায় পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মোট ৬৪ শিক্ষার্থীকে ‘পরীক্ষা +১’, ‘পরীক্ষা +২’ ও ‘পরীক্ষা +৩’ মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

ফেরদাউসের ভিন্ন ব্যাখ্যা

তবে পরীক্ষার সময় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে উত্তর খোঁজার অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন মো. ফেরদাউস।

তার দাবি, পরীক্ষার আগের রাত থেকে তার ছোট ভাই গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। পরীক্ষার দিন সকালে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোন বন্ধ পাওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে পরীক্ষা চলাকালে ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য হলের বাইরে বের হলে বিভাগের এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা হয়।

ফেরদাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ওই শিক্ষার্থীর ফোন ব্যবহার করে বাড়িতে কল করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক বিষয়টি দেখতে পান এবং পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি: প্রক্টর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল রতন বলেন, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয় না।

তিনি বলেন, ডাকসুর হল সংসদের নেতা হোন কিংবা ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকুন—অভিযোগের প্রমাণের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সংশোধনী নিয়ে যা জানা গেছে

প্রতিবেদনের পূর্ববর্তী তথ্যে মো. ফেরদাউসকে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল সংসদের শিবির-সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হল সংসদ নির্বাচনে তারা কোনো প্যানেল দেয়নি। তবে সংগঠনটির সমর্থন নিয়ে অনেকে নির্বাচন করেছেন বলে তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়।

এ বিষয়ে ফেরদাউসের বক্তব্য, তিনি হল সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। কেউ তাকে শিবির-সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করলে তার প্রমাণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

ঢাবির পরীক্ষায় এআই ব্যবহার, দুই শিক্ষার্থীর শাস্তি

#ঢাবি #ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয় #এআই #চ্যাটজিপিটি #পরীক্ষা #অধিকারপত্র