ঢাকা | শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে অতি দ্রুত জাতীয় নির্বাচন : প্রত্যাশা ফখরুলের

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:১৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:১৩

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অতি দ্রুত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা (বিএনপি) আশা করি, সকল দলের মতামতের ভিত্তিতে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ঐকমত্য সৃষ্টির মাধ্যমে দেশে খুব শিগগিরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আজ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এলডিপি (অলি), নাগরিক ঐক্য ও এবি পার্টিসহ ২৬টি রাজনৈতক দলের প্রতিনিধিদের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। এই বেঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নিজ-নিজ অবস্থান থেকে কথা বলেছেন এবং স্ব-স্ব দলের নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজধানীর বেইলি রোডস্থ ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে শনিবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা ধরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চূড়ান্তভাবে গঠনমূলক ও ইতিবাচক কোনো আলোচনা হয়নি। কারণ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে এটি ছিল প্রথম বৈঠক। তাই, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে চূড়ান্তভাবে বলার কোনো সুযোগও ছিল না।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমির সামনে তাৎক্ষণিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘আজকে প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। সভায় রাজনৈতিক দলগুলোকে তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন সংস্কার কমিশন যে রিপোর্টগুলো প্রদান করেছে, তার প্রত্যেকটা বিষয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে এই কমিশন আরো বিস্তারিত আলোচনা করে সর্বোচ্চ মতামতের ভিত্তিতে একটা ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। সেটাই হচ্ছে আজকের বৈঠকের মূল কথা।’

আগে জাতীয় নির্বাচন, না স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবার আগে হতে হবে। তারপরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে শুধু প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। বলা যেতে পারে এ আলোচনা ছিলো পরিচিতিমূলক।’

মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বাধীন বিএনপির ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলের অপর সদস্যরা হলেন- ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহ উদ্দিন আহমেদ ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

এছাড়া, বৈঠকে মোস্তফা জামাল হায়দারের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামী, অলি আহমেদের নেতৃত্বে এলডিপি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বে নাগরিক ঐক্য, এসএম আলতাফ হোসেন ও সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বে গণফোরাম, জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে গণসংহতি আন্দোলন, সাইফুল হকের নেতৃত্বে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, মাওলনা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানীর নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন, মাওলানা আবদুল বাছিদ আজাদ ও আহমেদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে খেলাফতে মজলিশ, নুরুল হক নূরের নেতৃত্বে বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদ, খন্দকার লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে জাগপা, ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে এনপিপি, আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বে বিজেপি, নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

বৈঠকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের জাতীয় নাগরিক কমিটির চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেন। এদের মধ্যে ছিলেন, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, আখতার হোসেন, সামান্তা শারমিন, সারজিস আলম।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে সাত সদস্যের ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠন করা হয়। এটি ছিল কমিশনের প্রথম বৈঠক।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: