odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 5th January 2026, ৫th January ২০২৬
বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়ন, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং আইনি সুরক্ষার বাস্তব চিত্র নিয়ে একটি সাহিত্যিক ময়নাতদন্ত।

'অর্ধেক আকাশ ও একমুঠো শেকল: নারী ক্ষমতায়নের গোলকধাঁধায় বঙ্কিম-নজরুল' — অধিকারপত্র বিশেষ কলাম (৬ষ্ঠ পর্ব)

Dr Mahbub | প্রকাশিত: ৪ January ২০২৬ ০৮:৪২

Dr Mahbub
প্রকাশিত: ৪ January ২০২৬ ০৮:৪২

— অধিকারপত্র ধারাবাহিক সম্পাদকীয় বিশেষ কলাম (ষষ্ঠ পর্ব)

বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়ন, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং আইনি সুরক্ষার বাস্তব চিত্র নিয়ে একটি সাহিত্যিক ময়নাতদন্তএতে বঙ্কিমচন্দ্রের গাম্ভীর্য এবং নজরুলের সাম্যবাদী চেতনার মিশেলে বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ব্যবচ্ছেদ করা হয়েছে

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসে যখন পশুপতি ও মনোরমার বিচিত্র মনস্তত্ত্বের খেলা চলে, তখন নারী হৃদয়ের এক গহীন রূপ ফুটে ওঠে। কিন্তু আধুনিক বাংলাদেশের ‘মনোরমা’রা আজ আর কেবল অন্দরে বসিয়া বিরহগাথা রচনা করেন না; তাঁহারা আজ রণাঙ্গনে, কলকারখানায়, মহাকাশে এবং ক্ষমতার অলিন্দে। তথাপি, বঙ্কিমী ঢঙেই প্রশ্ন জাগে— "পথিক নারী, তুমি কি বাস্তবিকই মুক্তি পাইয়াছো, নাকি কেবল কক্ষ হইতে কক্ষান্তরে স্থানান্তরিত হইয়াছো?"

বিদ্রোহী কবির জবানিতে: বিজয়-লক্ষ্মী ও বন্দিনী আলোর মেয়ে

নজরুল তাঁহার ‘নারী’ কবিতায় উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করিয়াছিলেন— "বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" নজরুলের এই সাম্যের গান আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের স্ক্রিনে ভাসিতেছে সত্য, কিন্তু বাস্তবতার কঠিন জমিনে নারী আজ কতটুকু ‘ক্ষমতা’ অর্জন করিয়াছে আর কতটুকু ‘শেকল’ ভাঙ্গিয়াছে, তাহাই অদ্যকার ব্যবচ্ছেদ্য বিষয়।

আমি গাহি সাম্যের গান—যেখানে আমার চক্ষে পুরুষ ও রমণীর মধ্যে কোনো কৃত্রিম ভেদাভেদ নাই।” অথচ আজিকার এই তথাকথিত ‘ক্ষমতায়ন’-এর যুগে দাঁড়াইয়া ব্যথিত হৃদয়ে দেখিতেছি, আমাদের সেই আলোর মেয়েরা আজ আঁধার হেরেমে বন্দিনী। ইতিহাস সাক্ষী, নর নহে—নারীই প্রথম ইসলামে ইমান আনিয়াছিলেন; মা খাদিজার সেই মহিমা কি পুরুষ ভুলিয়া গিয়াছে? সুলতানা রাজিয়া কিংবা চাঁদ সুলতানার বীরত্বে যে বিশ্ব একদিন স্তম্ভিত হইয়াছিল, সেই তেজ আজ গ্লানির কালিতে ছাইয়া গিয়াছে কেন?

মনে রাখিও হে পুরুষ,

বিশ্বে যা-কিছু মহান্‌ সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।
বিশ্বে যা-কিছু এল পাপ-তাপ বেদনা অশ্রুবারি,
অর্ধেক তার আনিয়াছে নর, অর্ধেক তার নারী।

—অতএব, কোনো কালেই তোমার তরবারি একা জয়ী হয় নাই; তোমাকে রণক্ষেত্রে পাঠাইয়াছে যে জননী, যে জায়া—সেই ‘বিজয়-লক্ষ্মী’ নারীই তোমার শক্তির মূল চালিকাশক্তি। জেনো রে মূঢ়, যেদিন এই বন্দিনীরা মুক্তি পাইবে, সেদিনই পৃথিবীতে পুনরায় লক্ষ খাদিজার জন্ম হইবে এবং সমাজের গ্লানি মুছিয়া যাইবে। নারীকে ‘সেবা’র মূর্ত প্রতীক বানাইয়া ঘরে আবদ্ধ রাখা ক্ষমতা নহে, বরং তাঁহাকে তাঁহার প্রাপ্য ‘সিংহাসন’ ও ‘মর্যাদা’ ফিরাইয়া দেওয়াই প্রকৃত সাম্য। যেদিন পৃথিবী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়, সেদিনই হইবে প্রকৃত স্বাধীনতা।

রবীন্দ্রনাথের জবানিতে: 'রঙচঙে পুতুল' 'আদ্যাশক্তি' দ্বৈরথ

রবীন্দ্রনাথের লেখনীতে নারী কখনো এক বিচিত্র দোলাচলের নাম, কখনো বা এক শাশ্বত ধ্রুবতারা। তিনি একদিকে সমাজকে চাবুক মারিয়া দেখাইয়াছেন যে, আমাদের এই পোড়া দেশে মেয়েদের কেবল ‘বিয়ের দোকানের জানলায়’ সাজাইয়া রাখিবার উপযুক্ত ‘রঙচঙে পুতুল’ করিয়া তোলা হয়। বিলিতি হোক বা দিশি—পুতুল গড়িবার এই কারখানা নারীকে কেবল ‘মাটির দরে’ বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত করিয়াছে, যেখানে পুরুষই হইল হর্তাকর্তা আর নারী তাহার মনের লাগাম লাগানো অনুগতা।

আরো পড়ুন: স্বাস্থ্যখাতের সংকট ও সমাধানের সন্ধানে: বঙ্কিম-নজরুলের সাহিত্যিক চশমায় বাংলাদেশের চিকিৎসা বাস্তবতা —'পথিক, তুমি কি আসলেই পথ হারাইয়াছো?' : স্বাস্থ্য খাতের আইসিইউ ও প্রেসক্রিপশনের গোলকধাঁধা (Odhikarpatra, ১ January ২০২৬) —অধিকারপত্র ধারাবাহিক সম্পাদকীয় বিশেষ কলাম (Odhikarpatra Editorial Feature Column Series) - পঞ্চম পর্ব

কিন্তু এই ‘পুতুল’ সত্তার গভীরে কবি দেখিয়াছেন এক ‘আদ্যাশক্তি’র স্পন্দন। তাঁহার ‘চিত্রাঙ্গদা’ যখন দর্পভরে ঘোষণা করে— "দেবী নহি, নহি আমি সামান্য রমণী", তখন পূজা বা অবহেলার তুলাদণ্ড ভাঙ্গিয়া চুরমার হইয়া যায়। চিত্রাঙ্গদা চাহিয়াছেন ‘সংকটের পথে’ দুরূহ চিন্তার অংশীদার হইতে, সুখে-দুঃখে সহচরী হইতে। অথচ কবি আবার ‘কালান্তর’ প্রবন্ধে যখন নারীকে ‘পুরাতনী’ বা ‘আদ্যাশক্তি’ বলেন, তখন তিনি নারীর রক্তে ও হৃদয়ে জীবপালনের এক আদিম বেদনা ও প্রকৃতির নিগূঢ় সংকেত খুঁজিয়া পান। তাঁহার মতে, নারী সেই ‘সংসার’ গড়িবার শক্তি যাহা না থাকিলে মানুষ আকারহীন বাষ্পের মতো ছড়াইয়া পড়িত। একদিকে তিনি নারীমুক্তির আন্দোলনকে ‘কোলাহল’ বলিয়া সংশয় প্রকাশ করিয়াছেন, অন্যদিকে ‘সোনার বাঁধনে’ বন্দিনী গৃহলক্ষ্মীর জন্য করুণ ক্রন্দনও করিয়াছেন। রবীন্দ্রনাথের এই দর্শনে নারী ‘অর্ধেক মানবী, অর্ধেক কল্পনা’—যাঁহার অন্তরে প্রকৃতির গূঢ় গোপন রহস্য উৎসর্গের মতো বহমান। তাঁহার মুক্তি কেবল বাহিরের কর্মে নহে, বরং আপন ‘অহৈতুক রহস্য’ ও সহজাত শক্তির পূর্ণ বিকাশে, যেখানে সে কোনো দোকানের পণ্য নহে, বরং সৃষ্টির এক অবিচ্ছেদ্য প্রাণকেন্দ্র।

অন্দরমহল হইতে করপোরেট জঙ্গল: এক নবকুমারীর অভিযান

বঙ্কিমচন্দ্রের নবকুমার যেমন অচেনা অরণ্যে এক রহস্যময়ী সুন্দরীর দেখা পাইয়াছিলেন, আধুনিক কর্পোরেট বিশ্বও তেমনি শিক্ষিত নারীদের জন্য এক নব্য অরণ্য। এখানে গ্ল্যামারের আলো আছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষ আছে, কিন্তু সেই কক্ষের দেয়ালে দেয়ালে অদৃশ্য ‘কাঁচের সিলিং’ (Glass Ceiling) বিদ্যমান। একজন নারী যখন যোগ্যতার তুঙ্গে বসিয়াও কেবল লিঙ্গীয় পরিচয়ের কারণে পদোন্নতি হইতে বঞ্চিত হন, তখন নজরুলের সেই ‘বিদ্রোহী’ সত্তা যেন গুমরিয়া ওঠে।

আমরা নারীর ক্ষমতায়ন বলিতে কেবল কর্মক্ষেত্রে যোগদানকেই বুঝিয়াছি। কিন্তু নজরুলের সেই ‘বীরাঙ্গনা’ যখন অফিস শেষ করিয়া ঘরে ফিরেন, তখন তাঁহাকে পুনরায় ‘অন্নপূর্ণা’ সাজিতে হয়। এই যে দ্বিমুখী শ্রমের বোঝা, ইহা কি ক্ষমতায়ন নাকি আধুনিক দাসত্ব? বঙ্কিমচন্দ্র আজ থাকিলে হয়তো লিখিতেন— "যাঁহার হস্তে কলম আর ডাস্টার শোভা পায়, তাঁহার হস্তেই কেন রন্ধনশালার হাতা-খুন্তি অচ্ছেদ্য বন্ধন হইয়া রহিয়াছে?"

শ্রমের ঘাম ও বৈষম্যের নিক্তি: নজরুলের 'কুলি-মজুর' ও নারী

বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখিয়াছে যে লক্ষ লক্ষ নারী গার্মেন্টস কর্মী, তাঁহারা নজরুলের ‘কুলি-মজুর’ কবিতার আধুনিক সংস্করণ। রাজপথের তপ্ত পিচে যখন তাঁহারা মাইলের পর মাইল হাঁটিয়া কারখানায় যান, তখন তাঁহাদের চোখেমুখে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন থাকে। কিন্তু যখন পারিশ্রমিকের প্রশ্ন ওঠে, তখন দেখা যায়—একই শ্রম দিয়াও পুরুষের তুলনায় নারীর বেতন কাঠামো যেন বঙ্কিমচন্দ্রের সেই ‘অভাগীর স্বর্গ’-এর মতো এক অলীক কল্পনা।

নজরুল বলিয়াছিলেন— "সেদিন সুদূর নয়, যেদিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়!" কিন্তু পরিসংখ্যান বলে, সেই সুদিন এখনো আমলতান্ত্রিক আর মানসিকতার ফাইলে আটকিয়া আছে। ক্ষমতায়ন মানে কেবল সংখ্যাতত্ত্বের উপস্থিতি নয়, ক্ষমতায়ন মানে হইল ঘামের সঠিক মূল্যের স্বীকৃতি।

ডিজিটাল কাপালিক ও নিরাপত্তার অন্ধকার গলি

বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কপালকুণ্ডলা’র সেই কাপালিক আজ আর নির্জন বনে বাস করে না; সে আজ বাস করে সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট বক্সে। একজন নারী যখন সাহসিকতার সহিত নিজের মত প্রকাশ করেন, তখন এই ডিজিটাল কাপালিকরা তাঁহার চরিত্র হননে মত্ত হয়। নারীকে ‘বন্দি’ করিবার পুরাতন কৌশল আজ আধুনিক রূপ লইয়া সাইবার বুলিং-এ পরিণত হইয়াছে।

নজরুলের ‘বারাঙ্গনা’ কবিতায় যে সামাজিক ভণ্ডামির মুখোশ খোলা হইয়াছিল, আজিকার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতে সেই একই ভণ্ডামি প্রকট। ঘর হইতে বাহির, বাস হইতে মেট্রো—নারী কোথায় নিরাপদ? যখন জনাকীর্ণ বাসে নারী লাঞ্ছিত হয়, তখন বঙ্কিমচন্দ্রের ভাষায় বলিতে ইচ্ছা করে— "হে সমাজ, তুমি কি কেবল নারীর জন্য নিয়ম গড়িয়াছো, পুরুষের জন্য নহে?" ক্ষমতার প্রকৃত স্বাদ তখনই পাওয়া সম্ভব, যখন নারী নির্ভয়ে রাজপথে বিচরণ করিতে পারিবে।

ক্ষমতার অলিন্দে 'টোকেনিজম' বনাম নেতৃত্ব

বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ হইতে সংসদ—সর্বত্রই নারীর জন্য সংরক্ষিত আসন রহিয়াছে। কিন্তু এই ‘সংরক্ষিত’ শব্দটাই কি বৈষম্যের প্রতীক নহে? নজরুল চাহিয়াছিলেন নারী হউন ‘অগ্নিগিরি’, কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক কাঠামো তাঁহাকে বানাইয়া রাখিয়াছে ‘শো-পিস’। সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে যখন নারী কণ্ঠস্বরটি ক্ষীণ হইয়া আসে, তখন বুঝা যায় ক্ষমতার চাবিটি এখনো পুরুষতান্ত্রিক সিন্দুকেই বন্দি।

বঙ্কিমচন্দ্র লিখিয়াছিলেন— "পরের জন্য যে প্রাণ দেয়, সেই ধন্য।" আমাদের নারীরা পরিবারের জন্য প্রাণ দিতেছেন, কিন্তু নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত লইবার অধিকার কতটুকু পাইতেছেন? ক্ষমতায়নের অর্থ হইল ‘চয়েস’ বা পছন্দ করিবার ক্ষমতা। শিক্ষার ডিগ্রি হাতে লইয়াও যদি বিবাহের বাজারে নারী কেবল ‘পণ্য’ হইয়া থাকেন, তবে সেই উচ্চশিক্ষার মূল্য কতটুকু?

ধর্ম ও প্রথা: বঙ্কিম-নজরুলের সমকালীন লড়াই

বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসে বিধবা বিবাহের যে হাহাকার ছিল, আজিকার সমাজে তাহা রূপ পাল্টাইয়াছে। আজ বাধা আসে নারীর স্বাধীন চলাফেরায়, পোশাকে এবং তাঁহার উচ্চাভিলাষী স্বপ্নে। একদল মানুষ আজ ধর্মের দোহাই দিয়া নারীকে পুনরায় অন্ধকূপে ঠেলিয়া দিতে চাহে। নজরুল এই শ্রেণির বিরুদ্ধেই লিখিয়াছিলেন— "বিশ্বের যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।" সংস্কারের পথে এই যে রক্ষণশীলতার পাহাড়, ইহা ভাঙিতে হইলে নজরুলের সেই ‘মহাপ্রলয়’ দরকার। নারীর মস্তকে কেবল ঘোমটা নয়, সেখানে জ্ঞানের প্রদীপ জ্বালাইতে হইবে। বঙ্কিমচন্দ্র যেমন চাহিয়াছিলেন সমাজ হউন যুক্তিবাদী, নজরুল চাহিয়াছিলেন সমাজ হউন সাম্যবাদী। এই দুইয়ের মিলনই হইতে পারে প্রকৃত নারী ক্ষমতায়নের পথ।

চূড়ান্ত প্রতিফলন: অর্ধাঙ্গিনী নয়, মানুষ হওয়াই পরম লক্ষ্য

নারী ক্ষমতায়ন কেবল স্লোগান বা এনজিও-র সেমিনারে সীমাবদ্ধ থাকিলে চলিবে না। ইহাকে হইতে হইবে রক্তের কণায় কণায় এক চেতনার নাম। বঙ্কিমচন্দ্রের সেই প্রজ্ঞা আর নজরুলের সেই দ্রোহ যদি প্রতিটি নারীর হৃদয়ে সঞ্চারিত হয়, তবেই তাঁরা ছিঁড়িতে পারিবেন সেই একমুঠো শেকল যাহা তাঁহাদিগকে সহস্রাব্দ ধরিয়া বাঁধিয়া রাখিয়াছে।

ক্ষমতায়ন মানে পুরুষকে পরাজিত করা নয়, বরং পুরুষের হাত ধরিয়া এক সমান্তরাল পৃথিবী গড়িয়া তোলা। বঙ্কিমচন্দ্রের ‘কমলাকান্ত’ যেমন নেশার ঘোরে সত্য দেখিয়াছিলেন, আমরাও যেন ক্ষমতার নেশায় অন্ধ না হইয়া সত্যকার সাম্যকে বরণ করিয়া লই।

অদৃষ্টের পরিহাসে নারী আজ আর মাঠ হারায় নাই, বরং সে আজ নিজের মাঠ নিজেই চিনিয়া লইতেছে। উপদেষ্টা সম্পাদক হিসেবে আমাদের শেষ কথা— "নারী কোনো দয়ার পাত্রী নয়, সে আজ সৃষ্টির এক অনন্য কারিগর।"

আপনার মতামত আমাদের জন্য অমূল্য। কলামটি ভালো লাগিলে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট বক্সে আপনার ভাবনা জানান।

পরের পর্ব (পড়ুন): সপ্তম পর্ব - 'পথিক, তুমি কি আসলেই মাঠ হারাইয়াছো?' : ক্রীড়াঙ্গনের অবক্ষয় ও দুর্নীতির ময়নাতদন্ত—বঙ্কিম-নজরুল। Read. Reflect. Resist indifference. পরের পর্ব (চোখ রাখুন): সপ্তম পর্ব - 'পথিক, তুমি কি আসলেই মাঠ হারাইয়াছো?' : ক্রীড়াঙ্গনের অবক্ষয় দুর্নীতির ময়নাতদন্ত—বঙ্কিম-নজরুল।

অধ্যাপক ড. মাহবুব লিটু, উপদেষ্টা সম্পাদক, আমাদের অধিকারপত্র (odhikarpatranews@gmail.com)

#নারী_ক্ষমতায়ন #WomenEmpowerment #GenderEquality #BangladeshWomen #Odhikarpatra #Editorial #BankimNazrul #SocialReform



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: