ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
অধিকারপত্র ডটকম
সংবাদ প্রতিবেদন
দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং হল সংসদ নির্বাচন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম শিক্ষার্থীরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে তাঁদের প্রতিনিধিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যা ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি করেছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও সেদিন সকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন নতুন করে ৬ জানুয়ারি ভোটগ্রহণের দিন ঘোষণা করে।
🗳️ ভোটগ্রহণের সময়সূচি ও কেন্দ্র
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্যমতে, সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। পুরো ক্যাম্পাসে স্থাপন করা হয়েছে ৩৯টি ভোটকেন্দ্র ও ১৭৮টি বুথ। মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা
নির্বাচন কমিশনার আনিসুর রহমান জানান, ভোট গণনায় ব্যবহৃত ওএমআর মেশিন পরীক্ষামূলকভাবে যাচাই করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া যায়নি। প্রয়োজন বিবেচনায় অতিরিক্ত দুটি নতুন মেশিন সংযুক্ত করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে আজই ওএমআর পদ্ধতিতে গণনা সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা হাসান আশা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক।
কোন পদে কত প্রার্থী
নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী—
- কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদে প্রার্থী: ১৫৭ জন
- একমাত্র ছাত্রী হল সংসদের ১৩টি পদে প্রার্থী: ৩৩ জন
- মোট প্রার্থী সংখ্যা: ১৯০ জন
ভিপি পদে লড়ছেন ১২ জন, জিএস পদে ৯ জন এবং এজিএস পদে ৮ জন প্রার্থী।
অংশগ্রহণকারী প্যানেল
এবারের জকসু নির্বাচনে চারটি প্যানেল অংশ নিচ্ছে—
- ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’
- ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’
- বাম জোট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’
- জাতীয় ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’
এছাড়াও কয়েকজন প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
ভোটারদের উচ্ছ্বাস
নির্বাচনকে ঘিরে ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে আনন্দমুখর পরিবেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জকসু নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করছেন।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন,
“অনেক প্রতীক্ষার পর জকসু নির্বাচন হচ্ছে। আশা করছি, এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও মতপ্রকাশের নতুন পথ খুলে দেবে।”
নির্দেশনা ও অভিযোগ
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত গেট দিয়ে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে বলা হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইডি কার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একটি প্যানেল ওএমআর মেশিনে অসংগতির অভিযোগ তুললেও নির্বাচন কমিশন তা নাকচ করে দিয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: