odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 11th January 2026, ১১th January ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার সময় উত্তেজনা, তদন্তাধীন শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন

‘আওয়ামীপন্থী’ অভিযোগে শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিল চাকসু নেতারা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১০ January ২০২৬ ১৯:২৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১০ January ২০২৬ ১৯:২৪

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘আওয়ামীপন্থী’ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এক শিক্ষককে টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর অফিসে নিয়ে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতারা। ঘটনাটি ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চবির ২ নম্বর গেটে এ ঘটনা ঘটে। চাকসু নেতারা সেখানে ওই শিক্ষককে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডির হাতে তুলে দেন।

আটক হওয়া শিক্ষকের নাম হাসান মাহমুদ রোমান। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রক্টর। শিক্ষার্থীদের একটি অংশের অভিযোগ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা, গণহত্যাকে সমর্থন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ অবস্থানের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, চবির ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে আইন অনুষদের একটি পরীক্ষাকক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন ওই শিক্ষক। চাকসু নেতারা ডিন অফিসে আসছেন—এমন খবর পেয়ে তিনি পরীক্ষার হল থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে চাকসু নেতারা তাঁকে ধাওয়া করে আটক করেন এবং প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি বলেন,
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। যার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে তদন্ত চলমান, তাকে কীভাবে ভর্তি পরীক্ষার মতো স্পর্শকাতর দায়িত্ব দেওয়া হলো—এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে জবাব চাই।’

অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক হাসান মাহমুদ রোমান বলেন, পরীক্ষার হলে ডিউটিরত অবস্থায় কয়েকজন তাঁকে মব সৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানায়। তিনি পরিস্থিতি এড়াতে পরীক্ষার হল ত্যাগ করতে চাইলে কয়েকজন তাকে জোরপূর্বক ধরে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী বলেন, চাকসু নেতারা ওই শিক্ষককে প্রক্টর অফিসে নিয়ে এসেছেন এবং বর্তমানে তিনি প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে আছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

ঘটনাটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষক দায়িত্ব বণ্টন ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: