odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 15th January 2026, ১৫th January ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবসরপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত

কুবিতে দুই কর্মকর্তার বিদায়, আবেগঘন সংবর্ধনা ও দোয়ায় স্মৃতিময় মুহূর্ত

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৫ January ২০২৬ ০১:০৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৫ January ২০২৬ ০১:০৫

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরপ্রাপ্ত দুই কর্মকর্তার সম্মানে বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই দুই কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানাতে আয়োজিত হয় এ অনুষ্ঠান।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান, রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্রক্টর ড. মো. আবদুল হাকিম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুরুল করিম চৌধুরীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

বিদায়প্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন—পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেন এবং অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।

বিদায়ী বক্তব্যে কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ জুন যোগদানের আগেই তৎকালীন উপাচার্য প্রয়াত মাওলা স্যারের আহ্বানে তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। শুরুতে উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় অর্থ ও হিসাব, রেজিস্ট্রার ও প্রশাসনিক দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করেছেন। নানা চাপ, সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুমোদন ও পেনশন ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে সর্বদা ন্যায়নীতি, সততা ও আর্থিক বিধি মেনে চলার চেষ্টা করেছেন এবং অনিচ্ছাকৃত কোনো আচরণে কষ্ট পেলে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, এই আয়োজন কেবল বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান ও স্বীকৃতির বহিঃপ্রকাশ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিনগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। তিনি বলেন, পদ ক্ষণস্থায়ী হলেও নৈতিকতা, আমানতদারিতা ও কর্মদক্ষতাই মানুষের প্রকৃত পরিচয় বহন করে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে সহকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার এ আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কর্মজীবনে কী পেলাম তার চেয়ে কী দিতে পেরেছি—সেটাই প্রকৃত তৃপ্তির জায়গা। তিনি আরও বলেন, বিদায়ী কর্মকর্তারা নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অবসর জীবনকে নতুন অধ্যায় হিসেবে গ্রহণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে বিদায়প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় অবসরজীবন কামনা করে দোয়া করা হয়।

 


প্রতিবেদন: শাহরিয়ার হাসান জুবায়ের
তারিখ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: