নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আগামী জুনের মধ্যে শেষ করার জন্য সময়সীমা (ডেডলাইন) নির্ধারণ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, শান্তি আলোচনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী সপ্তাহে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধি দলগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে (সম্ভবত মিয়ামিতে) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শান্তি আলোচনার নতুন মোড়
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই এই সংঘাত বন্ধে তৎপরতা চালিয়ে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো দুই দেশের প্রতিনিধিদের সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে বসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জেলেনস্কি বলেন আমেরিকা প্রস্তাব করেছে যাতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার আলোচনারত দলগুলো আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে—সম্ভবত মিয়ামিতে—বৈঠক করে। আমরা আমাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছি। কেন জুন মাসকে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেনস্কি ইঙ্গিত দেন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন (Midterm Elections) এই সময়সীমা নির্ধারণে প্রভাব ফেলেছে।
আবুধাবি আলোচনা ও অমীমাংসিত ইস্যু
এর আগে গত শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা শেষ হয়। তবে সেখানে কোনো বড় ধরনের সমঝোতা বা ব্রেক-থ্রু আসেনি। জেলেনস্কির মতে আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার মতো কঠিন বিষয়গুলো এখনো কঠিনই রয়ে গেছে। এই প্রথমবার দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের (Trilateral Meeting) সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যদিও এর জন্য আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন বলে জেলেনস্কি সতর্ক করেছেন।
একদিকে কূটনীতি, অন্যদিকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা
শান্তি আলোচনার আবহ তৈরি হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তাপ কমেনি। বরং শীতের তীব্রতার মধ্যে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়া পুনরায় ম্যাসিভ অ্যাটাক শুরু করেছে।
হামলার ধরন: জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে রাশিয়া ৪০০-এর বেশি ড্রোন এবং ৪০টি মিসাইল নিক্ষেপ করেছে।
ক্ষয়ক্ষতি: পশ্চিম ইউক্রেনের লভিভ অঞ্চলের দোব্রোতভির এবং ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক অঞ্চলের বুরশতিন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য সাবস্টেশন এবং পাওয়ার লাইন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
বিপর্যস্ত জনজীবন: কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা হিমাঙ্ক বজায় রাখা প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে বিদ্যুৎ ও উত্তাপবিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বহু মানুষ রাত কাটাতে মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নিচ্ছেন।
জরুরি বিদ্যুৎ: বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে প্রতিবেশী পোল্যান্ডের কাছে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহের আবেদন জানিয়েছে ইউক্রেন।
পাল্টা হামলা ও হতাহতের পরিসংখ্যান
ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার তিভার (Tver) অঞ্চলে মিসাইল ফুয়েল তৈরির কারখানা এবং সারাতোভ (Saratov) অঞ্চলের একটি তেল ডিপোতে আঘাত হেনেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। গত এক সপ্তাহের তথ্যানুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রায় ৫৫,০০০ সৈন্য প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে বিবিসির তথ্যমতে রাশিয়ার পক্ষে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১৬০,০০০ ছাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় মিয়ামি বৈঠককে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইউক্রেনের জ্বালানি খাতের ওপর রাশিয়ার অব্যাহত হামলা এবং ভূখণ্ড নিয়ে দুই পক্ষের অনমনীয় অবস্থান এই শান্তি প্রক্রিয়াকে কতটা সফল করবে তা এখন দেখার বিষয়।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: