odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 25th March 2026, ২৫th March ২০২৬
কোজি সাটো পদত্যাগ করছেন; নতুন সিইও কেন্টা কন, কোম্পানির ভিতরে আর্থিক মসৃণতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধিতে মনোনিবেশ করবেন

টয়োটার নতুন সিইও: প্রকৌশলী থেকে ফাইন্যান্স এক্সপার্টের নেতৃত্বে বড় রূপান্তর

Special Correspondent | প্রকাশিত: ৮ February ২০২৬ ০১:১৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ৮ February ২০২৬ ০১:১৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

জাপানের বৃহত্তম অটোমেকার টয়োটা আজ ঘোষণা করেছে কোজি সাটো তিন বছরের টানা সিইও পদ থেকে অবসর নিচ্ছেন। সাটো ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সিইও আকিও টয়োটার স্থান গ্রহণ করেছিলেন। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন কেন্টা কন টয়োটার বর্তমান চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (CFO), যিনি কোম্পানির মুনাফার মূল চালিকা শক্তি হিসেবে পরিচিত। এই পদক্ষেপটি জাপানের অটোমোবাইল ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ ২০০৯ সালের পর প্রথমবার টয়োটার নেতৃত্বে কোনও প্রকৌশলী বা রেসার নয় বরং একজন ফাইন্যান্স এক্সপার্ট নিয়োগ পেলেন। নতুন নেতৃত্ব কাঠামোর অধীনে সাটো ভাইস চেয়ারম্যান এবং চিফ ইন্ডাস্ট্রি অফিসার (CIO) হিসেবে শিল্প সম্প্রসারণে মনোনিবেশ করবেন, আর কন কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ও বিনিয়োগ পরিবেশকে শক্তিশালী করার কাজে মনোনিবেশ করবেন।

কন শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমাদের প্রকৌশলীরা প্রযুক্তিগত উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমার কাজ হবে এমন একটি বিনিয়োগ পরিবেশ তৈরি করা যেখানে তারা স্বাধীনভাবে বিভিন্ন আইডিয়া পরীক্ষা করতে পারবে। তিনি আরও যোগ করেন, “চীনের অটোমোবাইল কোম্পানিগুলোর উত্থানকে মোকাবিলা করতে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে শিল্প সহযোগিতা ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। সাটোর নেতৃত্বে টয়োটা তার মাল্টি-পাথওয়ে পাওয়ারট্রেইন কৌশল আরও সম্প্রসারিত করেছে। যদিও অন্যান্য অটোমেকাররা ইভি (EV) প্রযুক্তিতে বড় দাওয়াই রেখেছিল, টয়োটার ধাপে ধাপে কৌশল সাফল্য বয়ে এনেছে। একই সময়ে সাটোর নেতৃত্বে কোম্পানির শেয়ারের মূল্য ১১১% বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন সিইও কনের উপর এই পদক্ষেপে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টয়োটা ও জাপানের অটোমোবাইল শিল্পকে শক্তিশালী করার জন্য।

এক নজরে টয়োটার বর্তমান অবস্থা:

নতুন সিইও: কেন্টা কন (কার্যকর ১ এপ্রিল, ২০২৬)।

মুনাফা পূর্বাভাস: শুল্ক ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও টয়োটা তাদের বার্ষিক মুনাফার পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৩.৫৭ ট্রিলিয়ন ইয়েন ($২২.৮ বিলিয়ন) করেছে।

শুল্কের প্রভাব: মার্কিন শুল্ক নীতির কারণে কোম্পানিটি তাদের অপারেটিং মুনাফায় প্রায় ১.৪৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন লোকসানের আশঙ্কা করছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: কেন্তা কোনের প্রধান লক্ষ্য হবে ব্রেক-ইভেন ভলিউম কমিয়ে আনা এবং চীনা প্রতিদ্বন্দ্বী বিওয়াইডি (BYD)-এর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে খরচ কমানোর মাধ্যমে মুনাফা বাড়ানো।

বিশ্লেষকদের মতে, টোয়োটা এখন তাদের প্রকৌশলগত উৎকর্ষের পাশাপাশি আর্থিক নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা বিশ্ববাজারে তাদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে সাহায্য করবে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: