নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনার পর অবশেষে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা। তবে এই শান্তি কতদিন টিকবে, তা নিয়ে জনমনে রয়ে গেছে গভীর সংশয়। সম্প্রতি ডেইলি মেইল এবং জেএল পার্টনার্স-এর এক যৌথ জনমত জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জনমতের প্রতিফলন: স্বস্তি বনাম অনিশ্চয়তা
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ শতাংশ ভোটার এই যুদ্ধবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ভালো ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করছেন। বিপরীতে ১৮ শতাংশ একে নেতিবাচক দেখছেন এবং ২৮ শতাংশ নাগরিক এ বিষয়ে নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছেন। যুদ্ধক্লান্ত মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে প্রধান আবেগ হিসেবে কাজ করছে স্বস্তি (Relief)। তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন অধিকাংশ নাগরিক। জরিপে দেখা গেছে:
মাত্র ২৫ শতাংশ মার্কিনি বিশ্বাস করেন এই যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে।
বিপরীতে ৫৪ শতাংশ নাগরিকের আশঙ্কা, এই চুক্তি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।
পাকিস্তানের শীর্ষ সম্মেলন ও কূটনৈতিক তৎপরতা
আগামী শুক্রবার পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য একটি শীর্ষ সম্মেলনে এই শান্তি প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা রয়েছে। জানা গেছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন এবং ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে সরাসরি আলোচনায় বসবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন।
হরমুজ প্রণালী ও অর্থনৈতিক প্রভাব
যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে জাতীয় পর্যায়ে প্রতি গ্যালন তেলের দাম ৪.১০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় বড় ধরনের ধস নামিয়েছে। চুক্তির অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের ফি দাবি করা। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
৪৩ শতাংশ ভোটার মনে করেন, শান্তি বজায় রাখতে এই ফি মেনে নেওয়া উচিত।
৩২ শতাংশ ভোটার এর বিরোধিতা করেছেন।
প্রেক্ষাপট
'অপারেশন এপিক ফিউরি' শুরু হওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক চরম তলানিতে পৌঁছেছিল। এমনকি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস করারও হুমকি দিয়েছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে যুদ্ধের পথ পরিহার করে কূটনীতির পথে হাঁটায় মার্কিন ভোটারদের একটি বড় অংশ আপাতত সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এখন সবার নজর শুক্রবারের পাকিস্তান সম্মেলনের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে এই ভঙ্গুর শান্তি চুক্তি দীর্ঘমেয়াদী রূপ পাবে কি না।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: