odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 7th May 2026, ৭th May ২০২৬
হামে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে ঢাবি ক্যাম্পাসে উত্তাল বিক্ষোভ। সাবেক সরকারের ব্যর্থতা ও অবহেলার অভিযোগ তুলে বিচার দাবি। মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন বিতর্কেও ডাকসুর সমালোচনা

হামে ৩ শতাধিক শিশুর মৃত্যু: ড. ইউনূস ও নূরজাহান বেগমের বিচারের দাবিতে ঢাবিতে প্রতীকী লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

Special Correspondent | প্রকাশিত: ৭ May ২০২৬ ১৪:৩৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ৭ May ২০২৬ ১৪:৩৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

সারা দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে অন্তত তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে এর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচারের দাবি জানিয়েছে ছাত্রসংগঠন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। একই সঙ্গে হামকে ‘মহামারি’ ঘোষণা করে তা প্রতিরোধে জরুরি ও সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শিশুদের প্রতীকী মরদেহ নিয়ে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

প্রশাসনের ব্যর্থতার অভিযোগ

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা ছিল। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। জাবির আহমেদ জুবেল বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের মুনাফার জন্য শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই অপরাধে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার। তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হামের এই প্রকোপের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও দেখিনি, বর্তমান সরকারের সময়েও দেখছি না। মনে হচ্ছে, তারা আরও শত শত প্রাণের ঝরে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে।

সংকট প্রাকৃতিক নয়, মানবসৃষ্ট

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, “জনগণ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছিল আগামীর জন্য, আর সেই আগামী হলো আমাদের শিশুরা। কিন্তু হামের এই সংকট প্রাকৃতিক নয়, এটি মানবসৃষ্ট।” তিনি অভিযোগ করেন যে, সংসদ বা বড় রাজনৈতিক দলগুলো (বিএনপি-জামায়াত) মার্কিন চুক্তি বা হামের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যুতে নীরব ভূমিকা পালন করছে।

জাপানে পুষ্প বিনিময় নিয়ে সমালোচনা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রিয়াদ তথ্য দেন যে, সরকারি হিসাবেই এখন পর্যন্ত হাসপাতালে তিন শতাধিক শিশু মারা গেছে। তিনি সাবেক প্রধান উপদেষ্টার সমালোচনা করে বলেন, “যখন দেশের মা-বাবার আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হচ্ছিল, তখন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস জাপানে গিয়ে শিশুদের সঙ্গে ফুল বিনিময় করেছেন।

বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান

সমাবেশে বর্তমান সরকারের প্রতিও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়। বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর অর্থ সম্পাদক নুজিয়া হাসান রাশা বলেন, অনতিবিলম্বে এই মহামারি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সাবেক প্রশাসনের যারা দায়ী, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রাখেন, যে বাবাকে তার শিশুর লাশ নিয়ে হাসপাতালের দরজায় দৌড়াতে হয়, তাকে আপনারা আগামীতে কোন কার্ড দিয়ে সান্ত্বনা দেবেন?

অন্যান্য দাবি

বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও সমালোচনা উত্থাপন করা হয়:

মহামারি ঘোষণা: হাম পরিস্থিতিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মহামারি ঘোষণা করা।

অস্থায়ী ক্যাম্প: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে হামের অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনে আপত্তি জানানোর জন্য ডাকসু নেতাদের তীব্র সমালোচনা করা হয়।

তদন্ত কমিটি: শিশু মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এতে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: