odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 7th May 2026, ৭th May ২০২৬
উত্তর কোরিয়ার সংবিধানেই লিপিবদ্ধ দেশটির পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রের মর্যাদা। এনপিটি চুক্তিতে আর ফিরবে না পিয়ংইং

পারমাণবিক অবস্থান থেকে এক চুলও সরবে না উত্তর কোরিয়া: জাতিসংঘে পিয়ংইয়ংয়ের হুশিয়ারি

Special Correspondent | প্রকাশিত: ৭ May ২০২৬ ১৬:৫৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ৭ May ২০২৬ ১৬:৫৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

আন্তর্জাতিক চাপ ও সমালোচনার মুখেও নিজেদের পারমাণবিক রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সরে আসবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে North Korea। দেশটির জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বলেছেন, কোনোভাবেই তারা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) মেনে চলবে না। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানানো হয় জাতিসংঘে নিযুক্ত উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত Kim Song বলেছেন বাহ্যিক চাপ বা একতরফা দাবির ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়ার (ডিপিআরকে) পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থান পরিবর্তন হবে না।

এনপিটি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকে পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি

North Korea ২০০৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা Treaty on the Non-Proliferation of Nuclear Weapons থেকে বেরিয়ে যায়। এর আগে ১৯৯৩ সালে তারা চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল। এরপর থেকে দেশটি অন্তত ছয়টি পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে এবং বর্তমানে তাদের কাছে ডজনখানেক পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই কর্মসূচির কারণে দেশটির ওপর একাধিক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

জাতিসংঘে এনপিটি পর্যালোচনা বৈঠক

বর্তমানে United Nations-এ এনপিটি চুক্তি নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক চলছে। সেখানে United States এবং তার মিত্র দেশগুলোর সমালোচনার জবাবেই এই অবস্থান তুলে ধরে পিয়ংইয়ং। রাষ্ট্রদূত কিম সং অভিযোগ করেন যুক্তরাষ্ট্র ও তার অনুসারী কিছু দেশ ভিত্তিহীনভাবে উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌম অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত পারমাণবিক নীতি

কিম সং আরও বলেন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে অবস্থান তাদের সংবিধানেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের নীতিমালাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। কোনো পরিস্থিতিতেই উত্তর কোরিয়া এনপিটি চুক্তির আওতায় ফিরে আসবে না।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া এনপিটি চুক্তির লক্ষ্য ছিল পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ, নিরস্ত্রীকরণ এবং শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব Antonio Guterres বলেছেন, চুক্তির প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ হচ্ছে না, বিশ্বাস ও আস্থা কমছে, আর পারমাণবিক বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে।

বিশ্বে পারমাণবিক শক্তিধর দেশ

স্টকহোমভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Stockholm International Peace Research Institute-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বে মোট ১২,২৪১টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স,যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল, উত্তর কোরিয়া। এদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কাছেই বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও উত্তর কোরিয়ার সম্পৃক্ততা

বিশ্লেষকদের মতে Russia-র ইউক্রেন আগ্রাসনে উত্তর কোরিয়া সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। বিনিময়ে মস্কোর কাছ থেকে সামরিক প্রযুক্তি সহায়তা পাচ্ছে পিয়ংইয়ং যা তাদের অস্ত্র সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: