odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 25th August 2026, ২৫th August ২০২৬
অনলাইন প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই না করেই শিক্ষকদের তালিকা ও তদন্ত কমিটি গঠনের অভিযোগ; তদন্ত বাতিল, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান–পরিচালকদের পুনর্বহাল এবং সিনেট–সিন্ডিকেট–ডিন ও শিক্ষক সমিতির নির্বাচন আয়োজনের দাবি নীল দলের

৫৮ শিক্ষককে ‘রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায়’ জড়ানোর অভিযোগ ও তদন্ত কমিটির প্রতিবাদ ঢাবি নীল দলের

Odhikarpatra News Desk | প্রকাশিত: ২৫ August ২০২৬ ১১:৪৩

Odhikarpatra News Desk
প্রকাশিত: ২৫ August ২০২৬ ১১:৪৩

অধিকারপত্র নিউজ ডেস্ক | ঢাকা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ শিক্ষককে কথিত রাষ্ট্রবিরোধী ও আইনবিরোধী তৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তালিকা প্রণয়ন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দল। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি দাবি করেছে, একটি অনলাইন প্রতিবেদনের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করেই শিক্ষকদের তালিকা করা হয়েছে এবং কোনো প্রত্যক্ষ লিখিত অভিযোগ ছাড়াই তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নীল দল তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। পাশাপাশি তদন্ত বাতিল, দায়িত্বচ্যুত চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের পুনর্বহাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ অনুসরণ এবং সিনেট, সিন্ডিকেট, ডিন ও শিক্ষক সমিতির নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ জন শিক্ষককে কথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তালিকা প্রণয়ন এবং তাঁদের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও প্রগতিশীল শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল। সংগঠনটির দাবি, যথাযথ তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর লিখিত অভিযোগ ছাড়াই এই প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ শিক্ষকদের মধ্যে ভয়, অনিশ্চয়তা এবং পেশাগত নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, গত ৪ আগস্ট ২০২৬ ‘এশিয়া পোস্ট’ নামের একটি অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ৪০৪ জন শিক্ষকের কথিত ‘গোপন তৎপরতা’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। নীল দলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই প্রতিবেদনকে অন্যতম ভিত্তি ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর পরবর্তী সময়ে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮ শিক্ষককে কথিত রাষ্ট্রবিরোধী ও আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়। সংগঠনটির অভিযোগ, মূল প্রতিবেদনের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি।

নীল দল আরও দাবি করেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট তালিকা ও স্ক্রিনশটে একাধিক ভুল, অসঙ্গতি এবং ‘কাল্পনিক নাম’ রয়েছে। এমনকি কলেজের অধ্যক্ষদেরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে তালিকাভুক্ত করার উদাহরণ রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণে প্রতিবেদনটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েই তারা প্রশ্ন তুলেছে।

শিক্ষকদের সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করার চেষ্টা’—অভিযোগ নীল দলের

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নীল দলের অভিযোগ, কথিত রাষ্ট্রবিরোধী গোপন তৎপরতার অভিযোগে শিক্ষকদের ‘নেতিবাচক ট্যাগিং’-এর মাধ্যমে সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে। বিদেশ গমনে বাধা, বেতন-ভাতা বন্ধ এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকির অভিযোগও তোলা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা একাডেমিক ও মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে নীল দল। তাদের ভাষ্য, তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) এবং অপর দুই সদস্য রাজনৈতিকভাবে সাদা দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ কারণে কমিটির স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে সংগঠনটি আপত্তি জানিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের দাবি, তালিকাভুক্ত ৫৮ শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সরাসরি লিখিত অভিযোগ বা প্রমাণ দাখিলের বিষয় প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় পর্যন্ত জানা যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও একাডেমিক পদ নিয়ে প্রশ্ন

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নীল দল অভিযোগ করেছে, বিভিন্ন বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও সেন্টারের বিদ্যমান চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে অন্য শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। দলটির বক্তব্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৩ সালের আইনগত কাঠামো অনুযায়ী একাডেমিক নেতৃত্ব নির্ধারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিধি, জ্যেষ্ঠতা ও নির্ধারিত প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা উচিত; রাজনৈতিক আনুগত্য নয়।

নীল দল আরও বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের ভিত্তি হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩। তাদের অভিযোগ, শিক্ষক তালিকা প্রণয়ন, অস্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও স্বায়ত্তশাসিত চরিত্রকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

তদন্ত বাতিলসহ যেসব দাবি জানিয়েছে নীল দল

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নীল দল অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটি বাতিল এবং ‘শিক্ষক নিপীড়নের রাজনীতি’ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউট থেকে দায়িত্বচ্যুত চেয়ারম্যান ও পরিচালকদের স্বপদে ফিরিয়ে আনার দাবি করেছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সিনেট, সিন্ডিকেট ও ডিন নির্বাচন আয়োজন এবং আগামী ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নীল দল।

প্রেস বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে সংগঠনটি বলেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩ অনুসরণ, শিক্ষকদের মর্যাদা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষকদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণের প্রশ্নে তারা সক্রিয় থাকবে।

সম্পাদকীয় নোট

এই প্রতিবেদনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উত্থাপিত অভিযোগ ও মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নিজস্ব বক্তব্য। অধিকারপত্র এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

-বিশেষ প্রতিনিধি 

#ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয় #নীল_দল #প্রেস_বিজ্ঞপ্তি #ঢাবি_শিক্ষক #তদন্ত_কমিটি #বিশ্ববিদ্যালয়_স্বায়ত্তশাসন #একাডেমিক_স্বাধীনতা #ঢাকা_বিশ্ববিদ্যালয়_আদেশ_১৯৭৩ #শিক্ষক_অধিকার #বিশ্ববিদ্যালয়_প্রশাসন #সিনেট_নির্বাচন #সিন্ডিকেট_নির্বাচন #ডিন_নির্বাচন #শিক্ষক_সমিতি #OdhikarPatra #অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: