odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 30th August 2026, ৩০th August ২০২৬
প্রতিষ্ঠানের বয়স ও Nitaqat শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ভিসা কোটা নির্ধারণ; নতুন ব্যবসায় সর্বোচ্চ ৫ এবং দুই বছরের বেশি পুরোনো প্রতিষ্ঠানে মিলবে ৫০টি পর্যন্ত ভিসা

সৌদি আরবে ওয়ার্ক ভিসায় নতুন নিয়ম: প্রতিষ্ঠানের বয়সের ওপর নির্ভর করবে বিদেশি কর্মীর কোটা

Special Correspondent | প্রকাশিত: ৩০ August ২০২৬ ১৯:২০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ৩০ August ২০২৬ ১৯:২০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

সৌদি আরব তাদের ওয়ার্ক ভিসা বা কাজের অনুমতিপত্রের কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন এই নিয়মের অধীনে, একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কতজন বিদেশি কর্মীর জন্য ভিসার আবেদন করতে পারবে, তা সরাসরি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনার সময়কালের (বয়স) ওপর নির্ভর করবে।

নতুন ও পুরোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য ভিন্ন নিয়ম

সংশোধিত এই নিয়মের আওতায়, যেসব কোম্পানি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দুই বছরের কম সময় ধরে পরিচালিত হচ্ছে, তারা সর্বোচ্চ ৫টি ওয়ার্ক ভিসা বা ৫ জন বিদেশি কর্মীকে স্পন্সর করতে পারবে। অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠান দুই বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের জন্য বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো সর্বোচ্চ ৫০টি পর্যন্ত ওয়ার্ক ভিসা পেতে পারে। এই ভিসাগুলো তারা একই সপ্তাহে একক বা একাধিক আবেদনের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারবে।

ইকোনোমিক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনটি আগের নিয়োগ ব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত। আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বয়স বা কাজের ইতিহাস যাই হোক না কেন, সকল নিয়োগকর্তার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য ছিল।

'এসটাবলিশিং প্রোগ্রাম' এবং 'নিতাকাত' রেটিং

সৌদি আরবের 'এসটাবলিশিং প্রোগ্রাম' (Establishing Programme)-এর আওতাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য সম্পূর্ণ ভিন্ন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এই প্রোগ্রামভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাথমিকভাবে মাত্র ২টি ওয়ার্ক ভিসার কোটা পাবে। তবে প্রোগ্রামে তাদের অগ্রগতি এবং 'নিতাকাত' (Nitaqat) রেটিং বা শ্রেণিবিভাগ উন্নত হওয়ার সাথে সাথে তাদের ভিসা কোটা বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।

'নিতাকাত' হলো সৌদি সরকারের একটি নিয়োগকারী রেটিং সিস্টেম। একটি কোম্পানির মোট কর্মীর মধ্যে কতজন স্থানীয় সৌদি নাগরিক রয়েছেন, তার অনুপাতের ওপর ভিত্তি করে এই রেটিং দেওয়া হয়। কোনো কোম্পানির নিতাকাত স্কোর ভালো হওয়ার অর্থ হলো তারা সৌদি সরকারের 'সৌদিকরণ' (Saudisation) নীতি সঠিকভাবে মেনে চলছে, যা তাদের বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আরও বেশি সুবিধা প্রদান করে।

প্রবাসী কর্মীদের ওপর প্রভাব ও সতর্কতা

নতুন এই ভিসা নীতিমালার ফলে কেনিয়া, আফ্রিকাসহ এশিয়া এবং অন্যান্য অঞ্চলের যেসব নাগরিক সৌদি আরবে কাজের উদ্দেশ্যে যেতে চান, তাদের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে। একটি নতুন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি যেহেতু সর্বোচ্চ পাঁচজনের বেশি বিদেশি কর্মী নিয়োগ দিতে পারবে না, তাই তাদের নিয়োগ সক্ষমতা বেশ সীমিত থাকবে।

অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা পুরোনো প্রতিষ্ঠানগুলো একসাথে ৫০ জন পর্যন্ত বিদেশি কর্মী নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায়, চাকরিপ্রার্থীদের কাছে এসব প্রতিষ্ঠানে কাজের নিশ্চয়তা অনেক বেশি থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, এখন থেকে যারা সৌদি আরবে চাকরির প্রস্তাব পাচ্ছেন, তাদের শুধু বেতন এবং পদের দিকে নজর দিলে চলবে না। কোনো চুক্তি স্বাক্ষর বা নিয়োগ ফি প্রদানের আগে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বয়স, তাদের 'নিতাকাত' রেটিং এবং প্রতিষ্ঠানের নামে ভিসা কোটা অবশিষ্ট আছে কি না—সেটি যাচাই করা প্রবাসী কর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সৌদিকরণ নীতির সম্প্রসারণ

মূলত ব্যবসার প্রসারকে উৎসাহিত করতে এবং নিয়ন্ত্রিত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই এই নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরোনো ও ভালো রেটিংপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোকে আন্তর্জাতিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশি স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, আর নতুন বা স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

এর আগে, সৌদি আরব ৬৯টি পেশাকে শুধুমাত্র স্থানীয় সৌদি নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত ঘোষণা করে বিদেশি কর্মীদের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। ওয়ার্ক ভিসার সর্বশেষ এই পরিবর্তনগুলোও মূলত দেশটির বৃহত্তর 'সৌদিকরণ' (Saudisation) নীতিরই একটি অংশ, যার লক্ষ্য হলো স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা এবং বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা পুনর্গঠন করা।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: