odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 6th September 2026, ৬th September ২০২৬
প্রচলিত Mercator মানচিত্রের পরিবর্তে মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন আরও বাস্তবভাবে তুলে ধরতে Equal Earth প্রজেকশন ব্যবহারের পক্ষে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব পাস

জাতিসংঘে প্রস্তাব পাস: বিশ্বমানচিত্রে দেখা যাবে আফ্রিকার আসল আয়তন

Special Correspondent | প্রকাশিত: ৫ September ২০২৬ ২৩:০৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ৫ September ২০২৬ ২৩:০৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

বিশ্বমানচিত্রে মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন ফুটিয়ে তুলতে ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। ১৫৬৯ সালে বেলজিয়ান মানচিত্রকর জেরার্ডাস মারকেটরের তৈরি বহুল ব্যবহৃত ‘মারকেটর প্রজেকশন’-এর স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছে এই নতুন মানচিত্র।

ঐতিহ্যবাহী মারকেটর মানচিত্রে মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি থাকা দেশ বা মহাদেশগুলোকে তুলনামূলক বড় এবং বিষুবরেখার আশপাশের অঞ্চলগুলোকে ছোট দেখায়। এতে ভৌগোলিক বিভ্রান্তি তৈরি হয়। নতুন এই প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে আফ্রিকার সঠিক আয়তন বিশ্ববাসীর সামনে দৃশ্যমান হবে।

মানচিত্রে বিকৃতি ও আসল চিত্র

মারকেটর মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ডকে আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় সমান আকারের মনে হলেও বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়। প্রচারণা গোষ্ঠী ‘ক্যালকুলেট দ্য ম্যাপ’-এর তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকা মহাদেশ এতটাই বিশাল যে এর ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, জাপান, মেক্সিকো এবং পুরো ইউরোপ মহাদেশের সিংহভাগ অনায়াসে এঁটে যাবে।

রাজনৈতিক মেরুকরণ ও মতামত

বিশ্বমানচিত্র পরিবর্তনের এই প্রস্তাবে একমাত্র দেশ হিসেবে বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে এস্তোনিয়া, জর্জিয়া, লিথুয়ানিয়া, মরক্কো, সার্বিয়া ও ইউক্রেন ভোটদানে বিরত ছিল।

টোগো: দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডুসে বলেন, মানচিত্র কখনো নিরপেক্ষ নয়। এটি শিক্ষা ও কল্পনাশক্তিকে প্রভাবিত করে। ঔপনিবেশিক মানসিকতার কারণে তৈরি বিকৃত তথ্য প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই আমরা আমাদের স্কুলের পাঠ্যপুস্তকে নতুন মানচিত্র যুক্ত করব।

ফ্রান্স: প্রস্তাবটির সহ-পৃষ্ঠপোষক ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো জানান, মানচিত্র বদলালেই বিশ্ব বদলে যাবে না, তবে দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি দূর করা সত্য প্রতিষ্ঠারই নামান্তর।

যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেন্সভিচ এই উদ্যোগকে একটি "রাজনৈতিক এজেন্ডা" আখ্যা দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার মতো মূল বিষয়ের বদলে ১৬ শতকের মানচিত্র সংশোধন ও মানসিক সুবিচারের মতো বিষয়ে সময় নষ্ট করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের এই প্রস্তাবটি সদস্য দেশগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। এ ছাড়া সমুদ্র ও আকাশপথে সঠিক দিক ও কোণ নির্ণয়ের সুবিধার্থে মারকেটর প্রজেকশনের নৌ ও বিমান চলাচল সংক্রান্ত ব্যবহার অব্যাহত থাকবে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: