odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 6th September 2026, ৬th September ২০২৬
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ। নিরাপত্তা জোরদার, থাকছে নাগরিক সংবর্ধনা।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের আগমন ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ে উৎসবের আমেজ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৫ September ২০২৬ ২২:০৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৫ September ২০২৬ ২২:০৭

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি | অধিকার পত্র ডটকম

রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তাঁর আগমনকে ঘিরে পুরো জেলায় তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, চলছে আলোকসজ্জা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম।

নিজ শহরের পরিচিত অলিগলি, বাজার ও সড়কগুলোতে এখন রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।

দুই দিনের সরকারি সফরে রাষ্ট্রপতি ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁওয়ে অবস্থান করবেন। সফরকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

যেভাবে শুরু হবে রাষ্ট্রপতির সফর

সফরসূচি অনুযায়ী, রোববার সকাল ১০টায় হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়াম মাঠে তাঁর অবতরণের কথা রয়েছে।

সেখান থেকে তিনি জেলা সার্কিট হাউসে যাবেন এবং সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। এরপর শহরের সেনুয়া পাড়ার পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে বাবা সাবেক মন্ত্রী মরহুম মির্জা রুহুল আমীন (চোখামিয়া) ও মা ফাতেমা বেগমের কবর জিয়ারত করবেন।

কবর জিয়ারত শেষে রাষ্ট্রপতি শহরের কালীবাড়ি এলাকায় নিজ বাসভবনে যাবেন। সেখানে দুপুরের খাবার ও বিশ্রামের পর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

সংবর্ধনা শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সেখানেই তাঁর রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের

সফরের দ্বিতীয় দিন সোমবার ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে তিনি নিজ বাসভবনে ফিরে দুপুরের খাবার গ্রহণ ও বিশ্রাম করবেন। পরে সার্কিট হাউসে যাওয়ার পর হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদার

রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে পুরো জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের সম্ভাব্য পথ, কর্মসূচির স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতির সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতি শুধু দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তি নন, তিনি ঠাকুরগাঁওয়েরও সন্তান। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি নিজ জেলার মানুষের কাছে ফিরছেন—এটি স্থানীয়দের জন্য গর্ব ও আবেগের মুহূর্ত।

জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনও রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে জেলার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে বলে জানান।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক জানান, রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরের সব কর্মসূচি সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন জানান, রাষ্ট্রপতির সফরকে সামনে রেখে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সফরের কর্মসূচি, যাতায়াতের পথ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো নিরাপত্তার আওতায় রয়েছে।

রাষ্ট্রপতির নিজ জেলায় এই প্রথম সরকারি সফরকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল, আনন্দ ও আবেগের সৃষ্টি হয়েছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: