odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 11th September 2026, ১১th September ২০২৬
দাপ্তরিক নথিতে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ ব্যবহারের নির্দেশ; কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো ডিজিটাল হাজিরাও দিচ্ছেন সরকারপ্রধান।

মাননীয়’ বাদ, নিজের দপ্তর থেকেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১০ September ২০২৬ ২৩:৩৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১০ September ২০২৬ ২৩:৩৪

অধিকারপত্র ডটকম 

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী পদবির আগে সম্মানসূচক ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দাপ্তরিক নিয়মের অংশ হিসেবে তিনি নিজেও ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তাঁর পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকালে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রবেশের আগে ডিজিটাল হাজিরা দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এর আগে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা শুধু পরিপত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের কার্যালয় থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তাঁর কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তাদের মতে, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের পরিবর্তে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

দাপ্তরিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী নিজে উদাহরণ তৈরি করছেন বলে কর্মকর্তারা জানান। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তিনিও ডিজিটাল হাজিরা দিচ্ছেন। কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে হাজিরা দেওয়ার ব্যবস্থা অনুসরণ করছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বাসসকে বলেন, রাষ্ট্রপতির আগে ‘মহামান্য’ এবং প্রধানমন্ত্রীর আগে ‘মাননীয়’ শব্দ পরিহারের পরিপত্রটি একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত এবং এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, পরিপত্রটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারি পত্রালাপ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিতে পরিপত্রের ব্যত্যয় না ঘটানোর বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও প্রশাসনের সর্বস্তরে নির্দেশনাটি জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমানোর লক্ষ্যে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করা, প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তাঁর চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার উদ্যোগ রয়েছে।

এ ছাড়া দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি অধিশাখার যুগ্ম সচিব তানভীর আহমেদ জানান, ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ পরিহারের পরিপত্রটি মাঠ প্রশাসনের সর্বস্তরে পৌঁছে গেছে। বৃহস্পতিবার থেকেই বিভিন্ন দপ্তরের চিঠিপত্রে এর বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো দপ্তর থেকে পরিপত্রের ব্যত্যয় ঘটলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: