odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 11th September 2026, ১১th September ২০২৬
বিরোধী দলের লংমার্চের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দেওয়ার আগে সরকারকে সময় দিচ্ছে তাঁর দল।

এত তেল কেন পোড়ালাম, বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১০ September ২০২৬ ২৩:৪৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১০ September ২০২৬ ২৩:৪৪

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, ১০ সেপ্টেম্বর

 অধিকারপত্র ডটকম /নিজস্ব প্রতিবেদক
 ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, 

 

 

 

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেছেন, ‘বিরোধী দলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তারা কী করে, আর কী বলে, এটা আমাদের বোধগম্য না। লংমার্চ করছে সরকারের বিরুদ্ধে, আবার সংসদে বলতেছে, এটা সরকারের সৃষ্ট নয়, তারা আন্তরিক। তাহলে কেন লংমার্চ করলাম, মানুষের ভোগান্তি কেন করলাম, এত তেল কেন পোড়ালাম? একটা লংমার্চের সার্থকতা কী?’

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম এ কথা বলেন। ‘হেবা আইনের বিতর্কিত সংশোধন প্রসঙ্গে শরিয়াহ্‌ ও আমাদের অবস্থান’ শিরোনামে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, এমন কোনো কর্মসূচি এখনো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেয়নি যে সরকার চাপে পড়ে। কেন দেয়নি? কারণ, সরকারকে একটু সময় দিচ্ছে।… সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে একটু সময় লাগবে। এ জন্য সমস্যার সমাধানের জন্য প্রেশারও করছেন এবং অপেক্ষাও করছেন যে সরকার সময় নিক।

সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘সরকারকে আমরা বক্তব্য দিয়ে প্রেশারে রাখব এবং সময় দিব। যদি এই সময়ের মধ্যে সরকার ব্যর্থ হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা এমন কর্মসূচি দিব, সরকার নামতে বাধ্য হবে।’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির বলেন, মাত্র ছয় মাস শেষ হতেই সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চ হয়েছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, দ্রব্যমূল্যের অবস্থা খুবই খারাপ। সরকার যানজট থেকে পরিত্রাণ দিতে পারেনি। সরকার সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব বিষয়ে মনোনিবেশ না করে সরকার হঠাৎ শরিয়াহ্‌বিরোধী আইন করছে। সরকারের মনে রাখা উচিত, মুসলমানদের ইমানের ওপর আঘাত এলে তারা রাস্তায় নামবে। গণ-অভ্যুত্থানের পর তাঁরা চেয়েছিলেন ইসলাম অনুযায়ী দেশ চলবে। সরকার এতে ব্যর্থ হলে তাঁরা আবার রাস্তায় নামবেন।

হেবাসংক্রান্ত আইনের মাধ্যমে সরকার দেশের ওলামাদের অপমান করেছে বলে মন্তব্য করেন সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেন, হেবাসংক্রান্ত আইনের বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম আগেই ভিন্নমত পোষণ করেছেন। সেখানে শরিয়াহ্‌–সংক্রান্ত একটি বিষয়ে খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের রেফারেন্স ব্যবহার করে শরিয়াহ্‌বিরুদ্ধ আইন প্রণয়ন করা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জ্ঞানীয় সম্পদের প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা। এর মাধ্যমে সরকার দেশের ওলামাদের অপমান করেছে।

ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমান সরকার কুরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে বারবার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু ছয় মাস না যেতেই সরকার শরিয়াহ্‌বিরোধী আইন পাস করেছে। ইসলামী আন্দোলন এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে দাবি জানাচ্ছে, অবিলম্বে এই আইন বাতিল করতে হবে।

শুক্রবার বিক্ষোভ

সংবাদ সম্মেলনে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬’ আরও পর্যালোচনার দাবি জানান সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। এ দাবিতে শুক্রবার সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।

‘নারী সাংবাদিকদের পর্দা করে আসতে হবে’

সংবাদ সম্মেলনে এক নারী সংবাদকর্মীকে সামনের কাতার থেকে সরিয়ে পেছনে বসানোর অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ইসলামী আন্দোলনের কোনো অনুষ্ঠানে নারী সাংবাদিকেরা সামনে বসবেন, নাকি পেছনে বসবেন?

এর জবাবে ইসলামী আন্দোলনের দ্বিতীয় শীর্ষনেতা সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘পর্দা করে আসবে...।’

তখন এক সাংবাদিক বলেন, ‘আপনাদের দলের নেতা তো নারীদের সঙ্গে টক শো করেন।’

জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, ‘না, না, সেটা ঠিক না। যদি টক শো করে, আমরা সেখানে বলব, যদি শরিয়তের খেলাপ হয়, ঠিক না।’

তখন সাংবাদিক বলেন, ‘আপনাদের মহাসচিবসহ অনেকে টক শো করেছেন।’

ফয়জুল করীম এর জবাবে বলেন, ‘এ তথ্যটাও ঠিক না; মহাসচিব করে নাই। একটা করছিল; আমরা বাধা দিয়েছি। আমার কথা হইছে, আমার কোনো বোন যদি আসে, শরিয়তসম্মতভাবে আসবে। আমরা তাঁকে বাধা দিচ্ছি না। আমার কোনো বোন যদি সাংবাদিকতা করে, আমরা তাঁকে বাধা দিচ্ছি না কিন্তু। আমার বোন যদি সাংবাদিকতা করে, সে করবে, কিন্তু শরিয়তসম্মতভাবে। যদি সে শরিয়ত না মানে, আমাকে শরিয়ত মানার সুযোগ করে দিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন

এত তেল কেন পোড়ালাম, বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম

হ্যাশট্যাগ: #ফয়জুলকরীম #ইসলামীআন্দোলন #লংমার্চ #জামায়াতে_ইসলামী #হেবা_আইন #শরিয়াহ_আইন #নারী_সাংবাদিক #শুক্রবার_বিক্ষোভ

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: