odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 19th September 2026, ১৯th September ২০২৬
Sense and Sensibility ছবিতে এলিনর চরিত্রে অভিনয় করা ডেইজি এডগার-জোন্স বললেন, বাস্তব জীবনেও প্রেমের ক্ষেত্রে তিনি আবেগের চেয়ে যুক্তিকে বেশি গুরুত্ব দেন।

প্রেমে আবেগ নয়, যুক্তিকে প্রাধান্য দেন ডেইজি এডগার-জোন্স

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৯ September ২০২৬ ১৭:২৬

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৯ September ২০২৬ ১৭:২৬

অধিকারপত্র ডটকম বিনোদন অনলাইন :

বিনোদন ডেস্ক: প্রেমের ক্ষেত্রে আবেগের চেয়ে যুক্তিকে বেশি প্রাধান্য দেন বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী ডেইজি এডগার-জোন্স। নতুন চলচ্চিত্র Sense and Sensibility-তে তিনি এলিনর ড্যাশউড চরিত্রে অভিনয় করেছেন—যে চরিত্রটি তার ছোট বোন ম্যারিয়ানের তুলনায় অনেক বেশি যুক্তিবাদী ও সংযত।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেইজি এডগার-জোন্স বলেন, ব্যক্তিগত জীবনের ক্ষেত্রেও তিনি অনেকটা এলিনরের মতো। প্রেমের বিষয়ে তিনি সাধারণত আবেগকে পাশে সরিয়ে রেখে মাথা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেন।

তার ভাষায়, প্রেমের ক্ষেত্রে তিনি অনেকটাই এলিনরের মতো এবং সাধারণত যুক্তিকে সামনে রাখেন। নিজের আবেগকে দূরে সরিয়ে রাখার বা চাপা দেওয়ার প্রবণতাও রয়েছে তার।

তবে Sense and Sensibility ছবিতে এলিনর চরিত্রটির যে পরিবর্তন দেখানো হয়েছে, সেটি ডেইজির কাছেও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, চরিত্রটি ধীরে ধীরে নিজের আরও স্বাধীন, আবেগপ্রবণ ও উচ্ছল দিকটি উপভোগ করতে শেখে। অভিনেত্রী জানান, বাস্তব জীবনেও তিনিও নিজের সেই দিকটি আবিষ্কার করতে শিখেছেন।

জেন অস্টিনের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত নতুন ছবিটি পরিচালনা করেছেন জর্জিয়া ওকলি। এতে ডেইজি এডগার-জোন্সের সঙ্গে ম্যারিয়ান চরিত্রে অভিনয় করেছেন এসমে ক্রিড-মাইলস।

ছবির গল্পে দুই বোন এলিনর ও ম্যারিয়ান বাবার মৃত্যুর পর প্রেম, বিচ্ছেদ, পারিবারিক সম্পর্ক এবং তৎকালীন সমাজের নানা প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়। এলিনরের চরিত্রকে ‘Sense’ বা যুক্তিবোধের প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। অন্যদিকে ম্যারিয়ান ‘Sensibility’ বা আবেগ ও অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব করে।

ডেইজি জানান, নতুন ছবিটি জেন অস্টিনের সময়কালকে সম্মান জানিয়েই নির্মাণ করা হয়েছে। তবে নির্মাণশৈলীতে আধুনিকতার একটি সতেজ অনুভূতিও রয়েছে।

এর আগে ১৯৯৫ সালে এমা থম্পসন ও কেট উইন্সলেট অভিনীত Sense and Sensibility চলচ্চিত্রটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ডেইজি জানান, ওই সংস্করণটি তার পছন্দের চলচ্চিত্রগুলোর একটি হলেও নতুন করে একই গল্প বলার যথেষ্ট কারণ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

অভিনেত্রীর মতে, জেন অস্টিনের গল্প এখনো মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করে, কারণ প্রেম, সম্পর্ক, পরিবার এবং মানুষের পারস্পরিক আচরণ নিয়ে অস্টিনের পর্যবেক্ষণ আজও প্রাসঙ্গিক।

বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে অস্টিনের গল্প কেন প্রাসঙ্গিক—এমন প্রশ্নের জবাবে ডেইজি বলেন, প্রায় ২০০ বছর আগের মানুষের সঙ্গে বর্তমান সময়ের মানুষের আবেগের মৌলিক জায়গাগুলোতে খুব বেশি পার্থক্য নেই।

তার মতে, ভালোবাসা, হৃদয়ভাঙা, প্রথম প্রেম এবং সম্পর্কের নানা জটিলতা এখনো মানুষের জীবনের অংশ। ফলে এলিনর ও ম্যারিয়ানের জীবন, প্রেম এবং বড় হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা বিভিন্ন প্রজন্মের দর্শকের কাছেই পরিচিত মনে হতে পারে।

ছবিতে দুই বোনের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বাস্তব জীবনে একমাত্র সন্তান হলেও ডেইজি জানান, ছবিতে বোনত্বের অনুভূতি তার কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দর্শকদের কেউ ছবিটি দেখার পর নিজের বোনকে ফোন করে ভালোবাসার কথা বলতে চাইছেন, আবার কেউ বোন পাওয়ার ইচ্ছা অনুভব করছেন—এ বিষয়টি তাকে আনন্দ দেয় বলেও জানান তিনি।

ডেইজি এডগার-জোন্স ও এসমে ক্রিড-মাইলসের মধ্যে পর্দার বোনের সম্পর্কটি আরও স্বাভাবিক হয়েছে তাদের পুরোনো পরিচয়ের কারণে। ২০১৮ সালের Pond Life ছবিতেও তারা একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। ফলে নতুন ছবিতে তাদের পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি করা তুলনামূলক সহজ হয়েছে।

ডেইজি এডগার-জোন্স বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া Normal People সিরিজের মাধ্যমে। স্যালি রুনির উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ওই সিরিজে পল মেস্কালের সঙ্গে তার জুটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক পরিচিতি পায়।

পরবর্তী সময়ে ডেইজি Where the Crawdads SingTwisters-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। অন্যদিকে পল মেস্কালও Gladiator IIHamnet-সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছেন।

সম্প্রতি পল মেস্কালকে পরবর্তী জেমস বন্ড চরিত্রে অভিনয়ের সম্ভাব্য অভিনেতাদের তালিকায় থাকার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে ডেইজির কাছে জানতে চাইলে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। তবে পল মেস্কালের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তার বিশ্বাস পল অনেক কিছুই করতে পারেন।

সূত্র

BBC

অধিকার পত্র ডটকমের সম্পাদকীয় নোট

জেন অস্টিনের গল্পের জনপ্রিয়তা, প্রেম ও সম্পর্কের আবেগ এবং দুই বোনের পারস্পরিক সম্পর্ক—নতুন Sense and Sensibility চলচ্চিত্রটির আলোচনায় এসব বিষয়ই গুরুত্ব পেয়েছে। ডেইজি এডগার-জোন্সের বক্তব্যে উঠে এসেছে, দুই শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও মানুষের ভালোবাসা, বিচ্ছেদ ও সম্পর্কের মৌলিক অনুভূতিগুলো এখনো অনেকটাই একই রয়ে গেছে।


নতুন Sense and Sensibility ছবিতে এলিনর চরিত্রে ডেইজি এডগার-জোন্স। প্রেমের ক্ষেত্রে আবেগ চাপা দিয়ে যুক্তিকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

 

#ডেইজি_এডগার_জোন্স #SenseAndSensibility #JaneAusten #PaulMescal #বিনোদন #অধিকার_পত্র