odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 3rd October 2026, ৩rd October ২০২৬
সালাহউদ্দিন আহমদের পুরোনো দুর্নীতি মামলা, ঘোষিত সম্পদ, গুলশানের সম্পত্তি ও সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্পদের উৎস যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন হাসনাতের, স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩ October ২০২৬ ০০:০০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩ October ২০২৬ ০০:০০

অধিকারপত্র ডটকম অনলাইন ডেক্সটপ 

:

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পুরোনো দুর্নীতি মামলা, সম্পদ ও সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানান।

পুরোনো দুর্নীতি মামলার প্রসঙ্গ

হাসনাত তার পোস্টে দাবি করেন, ২০০৭ সালে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করে। ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে বিশেষ আদালত তাকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ঘুষ হিসেবে নেওয়া অর্থ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়।

পুরোনো ওই মামলার বিষয়ে সমসাময়িক সংবাদ প্রতিবেদনেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। দ্য ডেইলি স্টারের ২০০৮ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে এক কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার মামলায় সালাহউদ্দিন আহমদকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

হাসনাত আরও তার পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনসংক্রান্ত আরেকটি মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং চকরিয়ায় মাছের ঘের-সংক্রান্ত মামলার কথাও উল্লেখ করেন। এসব বিষয়ে তার পোস্টের বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সম্পদ নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত

হাসনাত আব্দুল্লাহর দাবি, নির্বাচনী হলফনামায় সালাহউদ্দিন আহমদ ও তার স্ত্রী হাসিনা আহমদের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ সময়ের সঙ্গে বেড়েছে। তিনি ২০০৮ সালে ৬ দশমিক ৩ কোটি, ২০১৮ সালে ১২ দশমিক ৭ কোটি এবং ২০২৫ সালে ৩০ কোটি টাকার হিসাব উল্লেখ করে এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তবে প্রকাশিত হলফনামা-ভিত্তিক প্রতিবেদনে ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব এবং দম্পতির মোট সম্পদের হিসাব আলাদা হতে পারে। ২০২৫ সালের হলফনামা নিয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে সালাহউদ্দিন আহমদের নিজের প্রদর্শিত মোট সম্পদের পরিমাণ ১৮ কোটি ২৪ লাখ ৪৪ হাজার ৬২৬ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বার্ষিক আয় ৬ কোটি ২১ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৭ টাকা বলা হয়েছে।

দ্য ডেইলি স্টারের হলফনামা বিশ্লেষণেও ২০০৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদের ঘোষিত সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে।

গুলশানের সম্পদ ও সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনা নিয়েও প্রশ্ন

হাসনাত তার পোস্টে গুলশানে সালাহউদ্দিন আহমদের সম্পদ এবং সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনার ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তিনি জানতে চান, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা একজন ব্যক্তি রাজনীতিতে আসার পর কীভাবে এত সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং এসব সম্পদের কতটা আয়, কতটা উত্তরাধিকার, বিনিয়োগ কিংবা অন্য কোনো বৈধ উৎস থেকে এসেছে—তার স্বচ্ছ ব্যাখ্যা আছে কি না।

তবে ২০২৫ সালের হলফনামা-ভিত্তিক প্রতিবেদনে সালাহউদ্দিন আহমদের আয়ের উৎস হিসেবে কোম্পানির পরিচালক হিসেবে সম্মানী, জমি বিক্রি, ব্যবসা, কৃষি ও বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে ভাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে তার গুলশানের একটি ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণও দেওয়া হয়েছে।

সব এমপি-মন্ত্রীর হিসাব প্রকাশের দাবি

হাসনাত আব্দুল্লাহ তার পোস্টে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব যাচাইয়ের দাবি জানান।

তিনি বলেন, যদি জনস্বার্থে কারও ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়, তাহলে প্রত্যেক এমপি-মন্ত্রীর ব্যাংক হিসাবও যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি-মন্ত্রীদের নিকটাত্মীয় ও আত্মীয়স্বজনের ব্যাংক হিসাবও নিয়মিত তলবের দাবি জানান তিনি।

হাসনাত আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা দায়িত্ব গ্রহণের আগে ও পরে তাদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করেছিলেন। একই ধরনের স্বচ্ছতা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও থাকা উচিত বলে তিনি মত দেন।

সালাহউদ্দিনের বক্তব্য

হাসনাত আব্দুল্লাহর উত্থাপিত প্রশ্ন ও অভিযোগের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বা তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নির্বাচনী হলফনামা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সালাহউদ্দিন আহমদের নিজের প্রদর্শিত সম্পদ, আয় ও সম্পদের উৎসের তথ্য ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে হাসনাতের উত্থাপিত প্রশ্নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট হলফনামা ও সরকারি নথির তথ্যও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

 

‘সালাহউদ্দিন আহমদের বিপুল সম্পদের উৎস কী?’—প্রশ্ন হাসনাতের

#হাসনাতআব্দুল্লাহ #সালাহউদ্দিনআহমদ #স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী #সম্পদেরউৎস #হলফনামা #দুদক #বিএনপি #এনসিপি #রাজনীতি #অধিকারপত্র