আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকারপত্র ডটকম
ইয়েমেনকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়লে তার একমাত্র সুবিধাভোগী হবে ইসরায়েল—এমন মন্তব্য করেছে ইরান। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আরব উপদ্বীপের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এ অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই মুসলিম দেশের মধ্যে শত্রুতা অব্যাহত থাকুক, তা ইরান চায় না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আগে থেকেই বিরাজ করছে।
আল জাজিরা ও ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান মনে করে, ইয়েমেনকে ঘিরে সংঘাতের বিস্তার আঞ্চলিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সংঘাত বাড়ানোর পরিবর্তে সংলাপ ও রাজনৈতিক সমাধানের পথ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দেশটি।
সৌদি আরব-হুথি সংঘাতে নতুন উত্তেজনা
সম্প্রতি সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি-সংশ্লিষ্ট হামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ১০ অক্টোবরের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। পরদিন বিমানবন্দর এলাকায় আরেকটি হামলায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক নিহত এবং ১১ জন আহত হন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
হামলার জন্য হুথি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে সৌদি আরব-সমর্থিত পক্ষ। পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ এবং ইয়েমেনে বিমান হামলার খবরও পাওয়া গেছে। ফলে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে সংলাপ শুরু এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। ১১ অক্টোবর সৌদি ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়েও আলোচনা হয়।
তবে সৌদি আরব ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। হুথিদের ওপর তেহরানের প্রভাব কতটা এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে হামলা বন্ধে ইরান কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইরান হুথিদের সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে তেহরান বলে থাকে, হুথিরা নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয়। অন্যদিকে সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, হুথিদের ওপর ইরানের প্রভাব রয়েছে।
ইয়েমেনের মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরল তেহরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইয়েমেনের জনগণের মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধমুক্ত জীবন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের সংঘাতের ফলে দেশটির বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য উদ্ধৃত করে আল জাজিরা জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে সংঘাত বাড়ার পর ইয়েমেনে দুই লাখ ১৩ হাজারের বেশি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ নারী ও শিশু।
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ
সৌদি আরব ও হুথিদের সংঘাতের প্রভাব শুধু ইয়েমেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার আশঙ্কা নেই। উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
ইরান সংঘাত বন্ধে আলোচনার আহ্বান জানালেও সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা এখনো নিশ্চিত নয়। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে, তা নির্ভর করছে সামরিক পদক্ষেপ, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং সংঘাতরত পক্ষগুলোর পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
তথ্যসূত্র:আল জাজিরা, ডন
