বগুড়া প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
বগুড়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) জেলা কার্যালয় দখল করে টাঙানো ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বগুড়া জেলা শাখার এক নেতাকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (আজ) বিকেলে জেলা প্রশাসক জানান, জাপা কার্যালয় দখলের ঘটনায় এনসিপির নেতাদের ডেকে ব্যানার অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বগুড়া শহরের কবি নজরুল ইসলাম সড়কে অবস্থিত জাপা কার্যালয়ে দখলকারীদের তালা ঝুলতে দেখা গেছে।
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল সানীকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাঁকে চূড়ান্তভাবে অব্যাহতি দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে সশরীর উপস্থিত হয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রোববার (গতকাল) রাতে এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক মাইনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে অব্যাহতির কারণ হিসেবে ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ’ উল্লেখ করা হলেও দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, জাপা কার্যালয় দখলের ঘটনাই এর নেপথ্য কারণ।
এনসিপির বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক এম এস এ মাহমুদ বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের প্রতিবেদনে আবদুল্লাহ আল সানীর নাম আসলেও তাঁকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মূলত দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ অনুযায়ী জাপা কার্যালয় থেকে ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।
অন্যদিকে আবদুল্লাহ আল সানী দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ‘বগুড়া ইনকিলাব মঞ্চ সমন্বয় কমিটি’র নেতা দাবি করে আসছিলেন। তবে ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, বগুড়ায় ইনকিলাব মঞ্চের কোনো কমিটি নেই। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের নামে চাঁদাবাজি করলে সংশ্লিষ্টদের প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে।
এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল সানী দাবি করেন, বগুড়ায় ইনকিলাব মঞ্চ গঠনের জন্য একটি সমন্বয় কমিটি ছিল এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি আরও বলেন, তিনি জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠকের দায়িত্বে রয়েছেন এবং সাংগঠনিক কারণে রোববার রাতে নিজেই এনসিপি থেকে অব্যাহতি চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র জানায়, গত শনিবার দুপুরে ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ে এনসিপির কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাপার জেলা কার্যালয় দখল করা হয়। এ সময় জাপার টাঙানো ব্যানার খুলে সেখানে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান গবেষণা কেন্দ্র’ ও ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাগণ’ লেখা ব্যানার টাঙানো হয়।
ঘটনার পর ‘জুলাই যোদ্ধা’ পরিচয়ধারীরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এতে জাপার জেলা কার্যালয়কে এনসিপির প্রচারণা অফিস হিসেবে ব্যবহারের দাবি করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান বলেন, তফসিল ঘোষণার পর কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয় দখল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত জাপা কার্যালয় থেকে সব ব্যানার সরাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, তফসিল ঘোষণার পর সন্ত্রাসী কায়দায় বগুড়া জেলা জাপা কার্যালয় দখল করা হয়েছে। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ এবং প্রয়োজনে মামলা করা হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: