নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, অন্য কোনো দেশ নয়—সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগানকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, দেশের মানুষই হচ্ছে আমাদের রাজনৈতিক সব ক্ষমতার উৎস। সে জন্যই আমরা জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে বিশ্বাস করি।
একনজরে জনসভার মূল দিকগুলো:
নির্বাচনী প্রচারণা: সিলেটের এই জনসভার মাধ্যমেই তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন।
সবার আগে বাংলাদেশ: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিদেশি কোনো শক্তির হস্তক্ষেপ কাম্য নয় বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
অধিকার প্রতিষ্ঠা: শুধু ভোটের অধিকার নয়, বরং প্রত্যেক মানুষকে স্বাবলম্বী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
শিরক ও রাজনৈতিক ওয়াদা নিয়ে কঠোর মন্তব্য
বক্তৃতার এক পর্যায়ে তারেক রহমান ধর্মীয় ভাবাবেগ ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির তুলনা টেনে আনেন। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, “কাবা শরিফ, দোজখ-বেহেশত এবং এই মহাবিশ্বের মালিক কে? জনতা সমস্বরে আল্লাহ উত্তর দিলে তিনি বলেন: নির্বাচনের আগে একটি দল এটা-সেটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। যেটার মালিক মানুষ নয়, সেটা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া কি শিরক করা নয়? যেটার মালিক একমাত্র আল্লাহ, সেটা মানুষ কীভাবে দেবে? তারা নির্বাচনের আগেই আপনাদের ঠকাচ্ছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা ও উন্নয়ন প্রসঙ্গ
বিগত ১৫-১৬ বছরের শাসন আমলের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা দেখেছি কীভাবে ব্যালট বক্স ছিনতাই হয়েছে, কীভাবে আমি-ডামি ও নিশিরাতের নির্বাচন করে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের নাম করে দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে।
গুম হওয়া নেতাদের স্মরণ
জনসভায় গুম হওয়া বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর প্রসঙ্গ বারবার উঠে আসে। ব্যানারে-ফেস্টুনে ইলিয়াস আলীর ছবি ছিল চোখে পড়ার মতো। তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ইলিয়াস আলীসহ সিলেট অঞ্চলের গুমের শিকার সকল নেতা-কর্মীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। জনসভাস্থলে গুম ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ বসার জায়গাও বরাদ্দ ছিল।
উৎসবমুখর পরিবেশ ও পরবর্তী কর্মসূচি
সকাল থেকেই সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতা-কর্মীরা মিছিলে মিছিলে জনসভাস্থল ভরিয়ে তোলেন। নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ দেখা যায়, তারা ‘দুলা ভাই স্লোগানে মাঠ মুখরিত করে রাখেন।
মঞ্চে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মহাসচিব, বিএনপি।
ডা. জুবাইদা রহমান, তারেক রহমানের স্ত্রী।
সিলেট বিভাগের সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা।
ঢাকার পথে আরও ৬ জনসভা: সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। পথে তিনি মৌলভীবাজার (শেরপুর), হবিগঞ্জ (শায়েস্তাগঞ্জ), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সরাইল), কিশোরগঞ্জ (ভৈরব), নরসিংদী এবং নারায়ণগঞ্জে (আড়াইহাজার/রূপগঞ্জ) নির্ধারিত নির্বাচনী পথসভা ও জনসভায় অংশ নেবেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: