আন্তর্জাতিক ডেস্ক, অধিকার পত্র ডটকম
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর পরপরই ইরান ‘ভয়ংকর প্রতিশোধ’ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দেশটির শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, এই হামলার জবাব হবে “অত্যন্ত কঠোর” এবং শত্রুপক্ষ কল্পনাও করতে পারবে না—এমন মূল্য তাদের দিতে হবে।
একাধিক শহরে বিস্ফোরণ, বাড়ছে উত্তেজনা
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইরানের কেরমানশাহ, লোরেস্তান, তাবরিজ, ইসফাহান ও কারাজে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে তেহরানের ইউনিভার্সিটি এলাকায় আঘাত হানার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করতে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে।
ইরানের সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র মাজিদ আখভান স্থানীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ এজেন্সি–কে জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সম্ভাব্য পাল্টা সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বেসামরিক বিমান চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই হামলা ও পাল্টা হুঁশিয়ারির ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল নতুন করে অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে। ইরান যদি কঠোর জবাব দেয়, তবে পরিস্থিতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে রূপ নিতে পারে—যার প্রভাব বৈশ্বিক তেলবাজার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পড়বে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: