odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 13th April 2026, ১৩th April ২০২৬
যুদ্ধের ছায়ায় ফিকে হচ্ছে সাউদি আরবের ভিশন ২০৩০, পতনের শঙ্কায় নেওম সিটি

যুদ্ধের প্রভাবে হুমকিতে সৌদি ভিশন ২০৩০: চাপের মুখে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১২ April ২০২৬ ২৩:৩০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১২ April ২০২৬ ২৩:৩০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

সাউদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের তুরুপের তাস এবং আধুনিক সাউদি আরবের ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিত ভিশন ২০৩০ এখন খাদের কিনারায়। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে চলমান বহুমুখী যুদ্ধের প্রভাবে এই মেগাপ্রকল্পটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে যেমন বিদেশি বিনিয়োগে ভাটা পড়েছে, অন্যদিকে নেওম সিটির মতো আকাশচুম্বী প্রকল্পগুলোর আকাশছোঁয়া বাজেট এখন অবাস্তব বলে প্রমাণিত হচ্ছে।

স্বপ্নের প্রকল্প নেওম ও অলীক বাজেটের মারপ্যাঁচ

ভিশন ২০৩০-এর মুকুটে সবচেয়ে উজ্জ্বল রত্ন হিসেবে ভাবা হয়েছিল ৫০০০ কোটি ডলার বাজেটের 'নেওম সিটি'-কে। তবে সম্প্রতি ফাঁস হওয়া অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (WSJ) জানিয়েছে, মূল নকশা বজায় রেখে এই শহর নির্মাণ করতে হলে প্রকৃত ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮.৮ ট্রিলিয়ন ডলারে। প্রকল্পের অন্যতম অংশ দ্য লাইন (১৭০ কিমি দীর্ঘ লিনিয়ার সিটি) নিয়ে শুরু থেকেই সংশয় ছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে নির্মাণ উপকরণের অভাব এবং তহবিলের অভাবে ২০২৯ সালের শীতকালীন এশীয় গেমসের আয়োজক স্বত্ব হারিয়েছে নেওম-এর স্কি রিসোর্ট ট্রোজেনা। এমনকি ট্রোজেনার ইস্পাত কাঠামো এবং স্যামসাং ও হুন্দাইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের ১ বিলিয়ন ডলারের টানেল প্রকল্পও বাতিল করা হয়েছে।

যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব ও তেল রাজনীতি

ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার ফলে পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় সাউদি আরবের তেল রপ্তানি দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চল এখন আর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ স্বর্গরাজ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। এর ফলে তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি গড়ার যে স্বপ্ন এমবিএস দেখেছিলেন তা শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল।

এমবিএস-এর নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ঝুঁকি

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ উঠেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের ওপর সামরিক হামলার জন্য গোপনে উৎসাহ যুগিয়েছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। জনসমক্ষে কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও ব্যক্তিগতভাবে তিনি একে মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনের ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রিতা যুবরাজকে এখন উল্টো বিপদে ফেলেছে। ইরানের পক্ষ থেকে সাউদি তেল স্থাপনায় হামলার হুমকি এবং বিদেশি বিনিয়োগের পলায়ন—সব মিলিয়ে তার নেতৃত্ব এখন অগ্নিপরীক্ষার মুখে।

সংস্কার বনাম বাস্তবতা

নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি প্রদান, ধর্মীয় পুলিশের ক্ষমতা হ্রাস এবং রিয়াদ এক্সপো ২০৩০-এর মতো আয়োজনের মাধ্যমে যে ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা চলছিল, তা বর্তমান সংকটে ম্লান হয়ে গেছে। খাসোগি হত্যাকাণ্ডের কলঙ্ক ধুয়ে মুছে সাফ করার যে প্রচেষ্টা ভিশন ২০৩০-এর মাধ্যমে শুরু হয়েছিল তা এখন যুদ্ধের ডামাডোলে হারিয়ে যাওয়ার পথে।

বিশ্লেষকদের অভিমত

ভিশন ২০৩০ শুধু একটি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নয় এটি বিন সালমানের ক্ষমতার ভিত্তি। যদি নেওম সিটি বা তেল-বহির্ভূত আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হয়, তবে কেবল সাউদি অর্থনীতিই নয় বরং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির নেতৃত্বের অবস্থানও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: