odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Monday, 4th May 2026, ৪th May ২০২৬
মুদ্রার পতন, সরবরাহ সংকট ও অবকাঠামো ধ্বংসে গভীর সংকটে ইরান

যুদ্ধের চাপে ইরানের অর্থনীতি বিপর্যস্ত, বেড়েছে মূল্যস্ফীতি—হারাচ্ছে লাখো চাকরি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩ May ২০২৬ ২০:০২

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩ May ২০২৬ ২০:০২

অধিকারপত্র ডটকম, আন্তর্জাতিক ডেক্স:

মূল প্রতিবেদন
যুদ্ধের প্রভাবে মারাত্মক চাপে পড়েছে ইরান-এর অর্থনীতি। দেশটিতে নিত্যপণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে, একই সঙ্গে লাখো মানুষ চাকরি হারাচ্ছে বা আয়হীন হয়ে পড়ছে।

রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে খাদ্য, ওষুধ, গাড়ি ও ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। বাজারে অনিশ্চয়তা এতটাই তীব্র যে অনেক বিক্রেতা পণ্য বিক্রি করতেই অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, নৌ অবরোধ এবং অবকাঠামো ধ্বংস—সব মিলিয়ে অর্থনীতিতে বহুমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের দুর্বল ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মানও ভয়াবহভাবে কমে গেছে। খোলা বাজারে ডলারের বিপরীতে রিয়াল রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমে গেছে, ফলে আমদানি ব্যয় বেড়ে গিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে শিল্পখাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ইস্পাত কারখানাসহ বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় ২০ লাখ চাকরি হারিয়ে গেছে।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, দেশটি এখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিম্ন প্রবৃদ্ধির এক ধরনের ‘স্ট্যাগফ্লেশন’-এর দিকে এগোচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি ছাড়িয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ভর্তুকি ও ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর চেষ্টা করলেও তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন নাগরিকরা। অনেকেই বলছেন, আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ব্যবধান দ্রুত বাড়ছে।

সব মিলিয়ে, চলমান যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে ইরানের সামগ্রিক অর্থনীতি গভীর সংকটে নিমজ্জিত হয়েছে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনা আপাতত কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: