odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 1st July 2026, ১st July ২০২৬
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, রায়কে প্রহসন আখ্যা

আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইনু পরিবারের; রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের সিদ্ধান্ত

Special Correspondent | প্রকাশিত: ৩০ June ২০২৬ ২৩:০০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ৩০ June ২০২৬ ২৩:০০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্রর

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় হত্যাকাণ্ডসহ আটটি অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের বিস্তারিত

ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাকে এই দণ্ড প্রদান করেন। রায়ের বিবরণ অনুযায়ী:

৩ নম্বর অভিযোগ (নির্যাতন ও রাজনৈতিক নিপীড়ন): ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।

৬ নম্বর অভিযোগ (ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা ও দুষ্কর্মে সংযোগ): ১ লাখ টাকা জরিমানাসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।

৭ নম্বর অভিযোগ (ষড়যন্ত্র): ১ লাখ টাকা জরিমানাসহ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড।

ট্রাইব্যুনাল জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত তিনটি অভিযোগের সাজা একসঙ্গে (যুগপৎভাবে) চলবে। ফলে তাকে কার্যকরভাবে ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। এছাড়া বাকি পাঁচটি অভিযোগ (১, ২, ৪, ৫ ও ৮) থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

হাসানুল হক ইনুর প্রতিক্রিয়া

রায় ঘোষণার পর আদালত প্রাঙ্গণ থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, প্রহসনের বিচারের সাজা দিল, আমি বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেলাম।" এ সময় প্রিজন ভ্যানে থাকা অন্য আসামিরা ‘জয় বাংলা স্লোগান দেন।

ফরমায়েশি রায়—মন্তব্য আফরোজা হক রীনার

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ইনুর স্ত্রী ও জাসদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আফরোজা হক রীনা এই রায়কে নিকৃষ্টতম অবিচার ও ফরমায়েশি আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমরা এই রায় প্রত্যাখ্যান করি, ঘৃণা করি। এটি আইনের নিকৃষ্টতম অপব্যবহার।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করছে। তিনি বলেন, "মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে যে মতবাদ, তারই প্রতিফলন এই রায়।" আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি জানান, দল, পরিবার ও আইনজীবীদের সাথে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান

এদিকে, রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনাল যে সাজা ও খালাসের রায় দিয়েছেন, তা আইনের যথাযথ ব্যাখ্যা ছাড়াই দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য ভিডিও ও অডিও ডকুমেন্ট থাকা সত্ত্বেও এবং ইনু সাফাই সাক্ষ্যে অভিযোগগুলো স্বীকার করা সত্ত্বেও আদালত খালাস বা কম সাজা দিয়েছে। আমরা প্রতিটি অভিযোগে বর্ধিত সাজা চাইব। উল্লেখ্য, বিচারকাজ চলাকালে হাসানুল হক ইনু কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন এবং ট্রাইব্যুনালের এই রায় সরাসরি বিটিভিতে সম্প্রচার করা হয়।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: