প্রকাশিত: বুধবার | ২০ মে ২০২৬ | বিশেষ প্রতিনিধি
অধিকারপত্র ডটকম
দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নামে একটি সমন্বিত ডিজিটাল নেটওয়ার্ক চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে একটি প্ল্যাটফর্মে আনা হবে।
সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী Farzana Sharmin বলেন, ‘ফ্যামিলি ট্রি’ চালু হলে একটি কার্ড ও কিউআর কোডের মাধ্যমেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সব ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা সেবা গ্রহণ করতে পারবে।
তিনি জানান, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে একই ব্যক্তি বা পরিবারে একাধিক ভাতা গ্রহণের সুযোগ বন্ধ হবে এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরাসরি রাষ্ট্রীয় সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী জুনের মধ্যে ৮০ হাজার মানুষের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। এই পাইলটিং কার্যক্রমের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের ত্রুটি ও সমস্যাগুলো শনাক্ত করে স্থায়ী সমাধান করা হবে।
তিনি বলেন, “যারা এই কার্ড পেয়েছেন তারা খুবই সন্তুষ্ট। পাশাপাশি অন্য এলাকাগুলোর মানুষও এ সুবিধার অপেক্ষায় রয়েছেন। এই ব্যাপক আগ্রহই প্রমাণ করে যে সরকার তার নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আন্তরিক।”
প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ১৬ মে চাঁদপুরে দ্বিতীয় ধাপে আরও ২০টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman। আগামী জুনে তৃতীয় ধাপে আরও ১৮টি উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু হবে।
ফারজানা শারমীন বলেন, সরকার ইউরোপ ও আমেরিকার আদলে একটি পূর্ণাঙ্গ “সোশ্যাল কার্ড” ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটি পরিবারের সব সদস্য কী ধরনের সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন তা একটি ডিজিটাল আইডির মাধ্যমেই জানা যাবে।
তিনি বলেন, “এক ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি ভাতা নিতে পারবেন না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রয়োজনীয় সুবিধা, যেমন প্রতিবন্ধী ভাতা বা কৃষক কার্ড, সচল থাকবে।”
বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হচ্ছে। তবে যারা আগে থেকেই বয়স্ক বা বিধবা ভাতা পাচ্ছেন, তারা নতুন কার্ড নিতে চাইলে আগের ভাতা ত্যাগ করতে হবে বলে জানান তিনি।
যোগ্য উপকারভোগী নির্বাচনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (পিএমটি) পদ্ধতিতে বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। আবেদনকারীর জীবনযাত্রা, ঘরের অবস্থা, ফ্রিজ বা টেলিভিশনের উপস্থিতিসহ বিভিন্ন সূচকে স্কোর নির্ধারণ করা হয়। ৮১৪-এর নিচে স্কোর পাওয়া অতি দরিদ্র পরিবারগুলো এই কার্ডের জন্য নির্বাচিত হবে।
ফারজানা শারমীন আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা। সরাসরি নারীদের হাতে অর্থ পৌঁছে দিয়ে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।”
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনিয়ম বা মধ্যস্বত্বভোগীর অভিযোগের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে রয়েছে। কোথাও কার্ডের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আসছে সমন্বিত ‘ফ্যামিলি ট্রি’, এক কার্ডেই সকল সুবিধা: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
#ফ্যামিলি_কার্ড #ফ্যামিলি_ট্রি #সমাজকল্যাণ #সামাজিক_নিরাপত্তা #ডিজিটাল_বাংলাদেশ #ফারজানা_শারমীন #প্রান্তিক_মানুষ
ফ্যামিলি ট্রি ফ্যামিলি কার্ড সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সামাজিক নিরাপত্তা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ভাতা কর্মসূচি

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: