প্রকাশিত: বুধবার | ২০ মে ২০২৬ | বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকারপত্র ডটকম
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে কোরবানির পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনগুলো। এ বছর দেশব্যাপী ৩ হাজার ৬০০টির বেশি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসানো হবে। একইসঙ্গে অনলাইন ও খামারভিত্তিক পশু বিক্রিতেও বাড়ছে ক্রেতাদের আগ্রহ।
রাজধানীতে এ বছর মোট ২৭টি কোরবানির পশুর হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে Dhaka South City Corporation (ডিএসসিসি)-এর আওতায় থাকছে ১১টি এবং Dhaka North City Corporation (ডিএনসিসি)-এর আওতায় ১৬টি হাট বসবে। গাবতলির স্থায়ী পশুর হাটও এর অন্তর্ভুক্ত।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী Mohammad Amin Ur Rashid জানিয়েছেন, এ বছর দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমেই কোরবানির পশুর সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো অবৈধ পশু প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে Border Guard Bangladesh (বিজিবি) ও পুলিশকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। ফলে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, “দেশীয় খামারিদের উৎপাদন এখন এতটাই সমৃদ্ধ হয়েছে যে আমদানি বা বাইরের উৎসের প্রয়োজন নেই। দেশীয় উৎপাদন দিয়েই কোরবানির সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করা যাবে।”
এদিকে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাড়ি বসেই পশু বাছাইয়ের প্রবণতা বাড়ছে। খামার মালিকরা নিজস্ব ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পশুর ছবি, ভিডিও, ওজন, খাদ্যতালিকা ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করছেন। অনলাইনে কেনাবেচার ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত হাসিল বা খাজনা দিতে হবে না বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
রাজধানীর বিভিন্ন খামারে ইতোমধ্যে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে খিলগাঁও ও আশপাশের এলাকার খামারগুলোতে আগেভাগেই গরু দেখতে, ওজন যাচাই করতে এবং দরদাম ঠিক করতে যাচ্ছেন অনেক ক্রেতা।
খামার থেকে পশু কেনার সুবিধা হিসেবে ক্রেতারা বলছেন, এতে হাটের ভিড় এড়ানো যায়, পশু অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে এবং সরাসরি খামার মালিকের কাছ থেকে পশুর খাদ্যাভ্যাস ও পরিচর্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়।
ডিএসসিসি’র প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা Mohammad Mobashwer Hasan জানান, ঘোষিত ১১টি হাটের মধ্যে ৯টির দরপত্র সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। বাকি দুইটির বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ডিএনসিসি’র জনসংযোগ কর্মকর্তা Zobayer Hossain জানান, ১০টি হাটের ইজারা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং সর্বোচ্চ দরদাতাদের কাছে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দুই সিটি কর্পোরেশন জানিয়েছে, ঈদের দিনসহ মোট পাঁচ দিন এসব হাটে আনুষ্ঠানিকভাবে পশু কেনাবেচা চলবে। হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং বড় হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম কাজ করবে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ছাড়া কোনো পশুকে হাটে তোলা যাবে না বলেও জানানো হয়েছে।
এছাড়া যানজট নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে আলাদা টাস্কফোর্স গঠন করা হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ রোধে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
কোরবানির পশুর হাট প্রস্তুত, অনলাইন ও খামারেও বাড়ছে কেনাবেচা
#কোরবানির_হাট #ঈদুল_আজহা #ডিএসসিসি #ডিএনসিসি #অনলাইন_হাট #খামার #গবাদিপশু #কোরবানি
ভেটেরিনারি টিম পশুর বাজার খামার গবাদিপশু ডিএনসিসি ডিএসসিসি অনলাইন পশু বিক্রি ঈদুল আজহা কোরবানির পশুর হাট

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: