odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 29th August 2026, ২৯th August ২০২৬
রংপুরের চারজন হত্যাকাণ্ডে ছাদে পানি পড়া নিয়ে আলামত নষ্টের অভিযোগ তুলেছেন সিদ্ধার্থের ভাই। অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

ছাদজুড়ে পানি ঢালল কে? রংপুরের হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৯ August ২০২৬ ২২:২৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৯ August ২০২৬ ২২:২৭

অধিকার পত্র ডেস্ক

রংপুরে আলোচিত চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে আলামত নষ্টের অভিযোগ তুলেছেন গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস। তাঁর দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর ভাই সিদ্ধার্থকে মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

তবে আলামত নষ্টের অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ভুল করে মোটরের সুইচ চালু হয়ে যাওয়ায় পানির ট্যাংকি উপচে ছাদে পানি পড়ে। এর সঙ্গে আলামত নষ্টের কোনো সম্পর্ক নেই।

অভিযোগের বিষয়ে দায়িত্বরত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হাকিম বলেন, ভুল করে মোটরের সুইচ অন করা হয়েছিল। ট্যাংকিতে পানি ভর্তি হওয়ার পর সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য, আলামত নষ্ট করার অভিযোগ সঠিক নয়।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কমিশনার সনাতন চক্রবর্তীও অভিযোগটি নাকচ করেছেন। তিনি বলেন, বাড়িটিতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারা রয়েছে। লাইটের সুইচ অন করার সময় ভুল করে মোটরের সুইচও অন হয়ে যায়। পুলিশ সদস্যরা বাড়ির কোথায় কোন সুইচ রয়েছে, তা জানতেন না। ফলে ট্যাংকির পানি উপচে ছাদে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, আলামত নষ্ট করার অভিযোগ ‘একেবারেই অবান্তর’। তাঁর দাবি, লাশ উদ্ধারের সময়ই প্রয়োজনীয় আলামত সংরক্ষণ করা হয়েছে।

যেভাবে শুরু হয় হত্যাকাণ্ডের তদন্ত

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুরে তালাবদ্ধ একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা, স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন রোববার (২৩ আগস্ট) নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, ওই দিন ভোরে একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ওই রাতেই তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে তাঁরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

পরে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের বন্ধু সীমান্ত আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। পুলিশ দাবি করেছে, ঘটনার রাতে ওই তিনজন একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

ডিবি হেফাজতে সিদ্ধার্থের বাবা-ভাই

এদিকে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের মধ্যে শনিবার (২৯ আগস্ট) অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও বড় ভাই পার্থ দাসকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনাস্থলের আলামত এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্তের ফলাফল এখনও পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্তভাবে জানানো হয়নি।

আলামত নষ্টের অভিযোগ এবং সিদ্ধার্থকে ফাঁসানোর দাবির বিষয়টিও তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ বা দাবি—কোনোটিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অধিকার পত্রের পাঠকদের জন্য: মামলার তদন্তের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

 

রংপুর হত্যাকাণ্ডে ছাদে পানি নিয়ে নতুন অভিযোগ | অধিকার পত্র

#রংপুরহত্যাকাণ্ড, #রংপুরচারহত্যা, #গণপতিচক্রবর্তীহত্যা, #সিদ্ধার্থদাস, #মুগ্ধদাস, #রংপুরহত্যামামলা, #আলামতনষ্টেরঅভিযোগ, #ডিবিহেফাজত,#রংপুরক্রাইমনিউজ, #অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: