নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন পোশাকশ্রমিকেরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে দক্ষিণখানের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শত শত শ্রমিক এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁদের অবরোধের কারণে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের একাংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবি
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে মাসিক ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারী শ্রমিকেরা। সকালে বিভিন্ন পোশাক কারখানা থেকে শ্রমিকেরা আজমপুর এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। পরে তাঁরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
শ্রমিকদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে বিমানবন্দরমুখী সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। আশপাশের সংযোগ সড়কেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
যানজটে আটকে দুর্ভোগে যাত্রীরা
সড়ক অবরোধের কারণে কর্মস্থলগামী মানুষ, গণপরিবহনের যাত্রী ও অন্যান্য পথচারী ভোগান্তিতে পড়েন। যানবাহন আটকে থাকায় অনেকের গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হয়। ব্যস্ত সময়ে মহাসড়কে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় দৈনন্দিন যাতায়াতেও বিঘ্ন ঘটে।
পুলিশের আশ্বাসে সড়ক ছাড়লেন শ্রমিকেরা
উত্তরা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার কে এইচ এম এরশাদ শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দক্ষিণখানের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বেলা ১১টার দিকে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
যুগান্তর ও বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক ঘণ্টা পর শ্রমিকেরা অবরোধ প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে যান। এরপর বিমানবন্দর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শ্রমিকদের বেতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন
পোশাকশ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি নতুন করে শ্রমিকদের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্যের বিষয়টি সামনে এনেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও পরিবারের অন্যান্য ব্যয় মেটাতে শ্রমিকদের আয়ের পর্যাপ্ততা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।
তবে এই কর্মসূচির পর শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা মালিকপক্ষের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতন চান পোশাকশ্রমিকেরা, উত্তরায় সড়ক অবরোধে ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী
#পোশাকশ্রমিক #বেতনবৃদ্ধি #উত্তরা #আজমপুর #শ্রমিকআন্দোলন #ঢাকাযানজট #বাংলাদেশসংবাদ #অধিকারপত্র
