odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 21st July 2026, ২১st July ২০২৬

প্রতিবন্ধিতা, প্রবেশগম্যতা ও অভিভাবক সক্ষমতা উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ শুরু করেছে বিএনএডিপি

Odhikarpatra News Desk | প্রকাশিত: ২১ May ২০২৬ ২৩:৫৮

Odhikarpatra News Desk
প্রকাশিত: ২১ May ২০২৬ ২৩:৫৮

ঢাকা, ২১ মে ২০২৬: বৈশ্বিক “Global Accessibility Awareness Day 2026” উপলক্ষে প্রতিবন্ধী শিশুদের অভিভাবকদের সক্ষমতা উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিএনএডিপি (BNADP)। “Accessibility – the needs and rights-based approach” শীর্ষক একটি অনলাইন প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।

বুধবার রাত ৯টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অভিভাবক, শিক্ষক, বিশেষজ্ঞ, প্রতিবন্ধিতা অধিকারকর্মী এবং সমাজকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিবন্ধী শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা, শিক্ষা গ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া এবং সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (ASD) বিষয়ক সচেতনতা ও দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনায় পরিবারকে আরও দক্ষ করে তুলতেই এই ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশিক্ষণটি সঞ্চালনা করেন ড. মাহবুবুর রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে সচেতনতা কিছুটা বাড়লেও প্রবেশগম্যতা, যোগাযোগ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং পরিবারভিত্তিক সহায়তা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “প্রতিবন্ধী শিশুর উন্নয়ন শুধু চিকিৎসা বা স্কুলের দায়িত্ব নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের যৌথ দায়িত্ব। অভিভাবকদের ক্ষমতায়ন ছাড়া প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি সম্ভব নয়।”

প্রশিক্ষণের প্রথম সেশনে “Foundations & Fundamentals, Core Guiding Principles, Access to Health, Implementation and Future Outlook” বিষয়ে আলোচনা করেন ড. এস এম ইমরান শোয়াইব। তিনি প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক অধিকারভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি, স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধিতাকে করুণা বা দানের বিষয় হিসেবে নয়, বরং মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায্যতার প্রশ্ন হিসেবে দেখতে হবে।

পরবর্তী সেশনে “Accessible Environments & Infrastructure” বিষয়ে আলোচনা করেন আসমা আহমেদ। তিনি ব্যারিয়ার-ফ্রি পরিবেশের ধারণা ব্যাখ্যা করে বলেন, একটি সমাজ তখনই সভ্য হয়ে ওঠে যখন সেখানে হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী, অটিজমসম্পন্ন শিশু, দৃষ্টি বা শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি—সবাই সমানভাবে চলাচল ও অংশগ্রহণ করতে পারে। তিনি ঘর, স্কুল, খেলার মাঠ, গণপরিবহন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শেষ সেশনে ড. মাহবুবুর রহমান “Accessibility in Education, Digital & Communication Access” বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগে শিক্ষা ও যোগাযোগব্যবস্থা যদি প্রবেশগম্য না হয়, তবে প্রতিবন্ধী শিশুরা নতুন ধরনের বৈষম্যের শিকার হবে। তিনি বিশেষভাবে ASD-সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিকল্প যোগাযোগ পদ্ধতি, ভিজ্যুয়াল সাপোর্ট, পরিবারভিত্তিক রুটিন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহায়তার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনেক অভিভাবক জানান, তারা এখনও সামাজিক কুসংস্কার, বিদ্যালয়ে বৈষম্য এবং সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে সংগ্রাম করছেন। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, রিসোর্স শেয়ারিং, অনলাইন সাপোর্ট নেটওয়ার্ক এবং অভিভাবক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

বিএনএডিপির এই উদ্যোগকে অংশগ্রহণকারীরা সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিবারকেন্দ্রিক সক্ষমতা উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা গেলে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, সামাজিক অংশগ্রহণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।

-বিশেষ প্রতিবেদক



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: