অধিকার পত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেক্স
বুলগেরিয়ায় অস্ত্র নির্মাণ ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ইএমসিও’-র একটি অস্ত্রের গুদামে বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে সারেভা লিভাদা গ্রামের কাছে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, আগুনের তীব্রতায় রাতের আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে।
বুলগেরিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান দেমারদেজিয়েভ জানিয়েছেন, ঘটনাটি নাশকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না এবং গত আগস্টে একই প্রতিষ্ঠানের অন্য একটি স্থাপনায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইএমসিওসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গুদামে অতীতে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলোও নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। এ ঘটনায় তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
ইএমসিও প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বুলগেরীয় অস্ত্র ব্যবসায়ী এমিলিয়ান গেবরেভ। দেশটির প্রসিকিউটরদের দাবি, অতীতে গেবরেভের অস্ত্র কারখানা ও গুদামগুলো রুশ গোয়েন্দা বা এজেন্টদের একাধিক হামলার শিকার হয়েছে।
২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ইউক্রেন ও জর্জিয়ায় রপ্তানির জন্য সংরক্ষিত অস্ত্রের ডিপো ধ্বংসের অভিযোগে ২০২৪ সালে বুলগেরিয়া ছয় রুশ নাগরিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। দেশটির তৎকালীন প্রসিকিউটররা বলেছিলেন, এসব বিস্ফোরণ, ২০১৫ সালে গেবরেভকে বিষপ্রয়োগের চেষ্টা এবং ২০১৪ সালে চেক প্রজাতন্ত্রের একটি অস্ত্র ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় রাশিয়ার যোগসাজশের সন্দেহের পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
তবে রাশিয়া এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে, ইএমসিওর উৎপাদন সুবিধা বিভাগের প্রধান স্লাভচো দিমিভ অস্ত্রের গুদামে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তায় আরও বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এর কয়েক সপ্তাহ আগেও পশ্চিম বুলগেরিয়ায় ইএমসিওর আরেকটি অস্ত্র ডিপোতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সর্বশেষ ঘটনাটির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
সূত্র: রয়টার্স

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: