odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 13th May 2026, ১৩th May ২০২৬

শিরিন আবু আকলেহ হত্যার বিচার না হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা বেড়েছে: অভিযোগ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৩ May ২০২৬ ০০:০৪

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৩ May ২০২৬ ০০:০৪

শিরিন আবু আকলেহ হত্যার বিচার না হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা বেড়েছে: অভিযোগ

চার বছর পেরিয়েও হয়নি কোনো বিচার, প্রশ্নের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিস্তিনি সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ হত্যার চার বছর পার হলেও এখনো কোনো বিচার না হওয়ায় ইসরায়েল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিক অধিকারকর্মী ও সহকর্মীদের দাবি, দায়মুক্তির সংস্কৃতিই গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০২২ সালের ১১ মে পশ্চিম তীরের জেনিন শরণার্থীশিবিরে সংবাদ সংগ্রহের সময় গুলিতে নিহত হন আল-জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ। একই ঘটনায় আহত হন সাংবাদিক আলী আল-সামুদি।

আল-সামুদি স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেদিন সাংবাদিকদের গায়ে স্পষ্টভাবে ‘প্রেস’ লেখা জ্যাকেট ও হেলমেট ছিল। তারা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করলেও হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু হয়। তিনি দাবি করেন, শিরিনকে লক্ষ্য করেই গুলি করা হয়েছিল।

তার ভাষায়, শিরিনের শেষ কথা ছিল—“আলী আহত হয়েছে।” এরপর একের পর এক গুলি ছোড়া হয় এবং হেলমেট ও জ্যাকেটের মাঝখানের উন্মুক্ত স্থানে গুলি লাগে শিরিনের ঘাড়ে।

শিরিন আবু আকলেহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন এবং আরব বিশ্বের অন্যতম পরিচিত সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর আল-জাজিরা ঘটনাটিকে ‘ঠান্ডা মাথার হত্যা’ বলে আখ্যা দেয়।

সাংবাদিক আলী আল-সামুদি বলেন, শিরিন হত্যার বিচার না হওয়াই আজ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়ার অন্যতম কারণ। তাঁর মতে, এখন সাংবাদিক হত্যা যেন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মীরাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ভাষ্য, গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে শত শত সাংবাদিক নিহত হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো আন্তর্জাতিক জবাবদিহি নিশ্চিত হয়নি।

আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউটের প্রধান জেমস জগবি বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটন সেই প্রভাব ব্যবহার করছে না।

তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল প্রায়ই প্রথমে হামলার দায় অস্বীকার করে, পরে অন্যের ওপর দোষ চাপায় এবং শেষে তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।

২০২২ সালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছিল, শিরিন সম্ভবত ইসরায়েলি গুলিতে ‘অনিচ্ছাকৃতভাবে’ নিহত হয়েছেন। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে আসে, তাকে লক্ষ্য করেই গুলি ছোড়া হয়েছিল।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড।

ফিলিস্তিনি বন্দীবিষয়ক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৪০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইসরায়েলের কারাগারে আটক রয়েছেন।

আলী আল-সামুদি বলেন, সাংবাদিকদের চলাচলে বাধা, হামলা, গ্রেপ্তার ও গুলিবর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। তারপরও তারা সংবাদ সংগ্রহ বন্ধ করবেন না বলে জানান।

তার ভাষায়, “শিরিন শুধু একজন সাংবাদিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবিকতা ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রতীক।”

হত্যার বিচার না হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা বেড়েছে: অভিযোগ

#শিরিন_আবু_আকলেহ #ফিলিস্তিন #আলজাজিরা #সাংবাদিক_নিরাপত্তা #ইসরায়েল #মধ্যপ্রাচ্য

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: