ক্রাইম প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানে এক ভবঘুরে নারীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে ঠান্ডা পানি ঢেলে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিন অপ্রাপ্তবয়স্কসহ পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান জানান, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকালে গুলশানের নদ্দা এলাকার মোড়েল বাজারে মারকাজুত তা’লীম আল ইসলামী মাদরাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। রোববার (৪ জানুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, মামলার আবেদন না থাকলেও পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত ও আটক করা হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শীতের পোশাক পরা এক নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। দুজন ব্যক্তি ছোট বালতি ও মগ দিয়ে তার গায়ে পানি ঢালছেন। নারীর যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখভঙ্গি স্পষ্ট হলেও আশপাশে থাকা কয়েকজন হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে ঘটনাটি উপভোগ করেন এবং একজন মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন।
পুলিশ জানায়, মাদরাসার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে—ওই নারী নাকি এক শিক্ষকের কক্ষে ঝুলিয়ে রাখা পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিয়েছিলেন। শিশুশিক্ষার্থীদের চিৎকারে বিষয়টি ধরা পড়ে। পুলিশে সোপর্দ করার পরিবর্তে অভিযুক্তরা নিজেরাই ‘শাস্তি’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
নির্যাতনের পর ওই নারীকে একটি উত্তরাগামী বাসে তুলে দেওয়া হয়। এখনো পর্যন্ত পুলিশ ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা নন।
ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আটকরা সবাই মাদরাসার শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠন ও সামাজিক সচেতন মহল দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: